নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, প্রত্যেক শিশুর মধ্যে অসংখ্য সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো সেই অবিরত সুপ্ত প্রতিভাগুলোর বিকাশ ঘটিয়ে শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি আজ কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য অনেক বড়। এটি শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা জিপিএ ফাইভ অর্জনের জন্য নয়, বরং এটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্য। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভাগুলোর জাগরণ ঘটানো এবং তাদের আত্মবিশ্বাস, মানসিকতা ও দক্ষতা উন্নয়ন করে এক যোগ্য ও স্বাবলম্বী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার এই মহান উদ্দেশ্য অর্জনে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের একসাথে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মানোন্নয়নে অভিভাবকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. রায় পোদ্দার আরও বলেন, শিশুর বিকাশে শিক্ষার পাশাপাশি পরিবারের ভূমিকা ও সামাজিক পরিবেশের প্রভাব ব্যাপক। শিশুদের সুষ্ঠ বিকাশের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু পাঠ্যক্রম বা শিক্ষকের দক্ষতা নয়, বরং অঙ্গীকারবদ্ধ অভিভাবক ও সচেতন সমাজের অংশগ্রহণও অপরিহার্য। তিনি শিশুদের মনোভাব, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা বলেন, শিশুর বিকাশে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বিনোদনের গুরুত্ব অপরিসীম। এসব উপাদান শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শিশুরা যেন তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে, সেজন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত অবকাঠামো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান। বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অগ্রগতি আলোচনা করেন এবং শিশুর সার্বিক বিকাশে করণীয় বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, এই মতবিনিময় সভা প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিশুর সার্বিক বিকাশে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, শিশুদের উন্নত ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এই ধরনের আলোচনা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

01612346119