আ.লীগ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত ৯ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রবিবার ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের সময় বৃদ্ধির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তিনি আদালতে জানান, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত প্রমাণ, সাক্ষ্য, ভিডিও ও নথিপত্র বিশ্লেষণের কাজ এখনও চলছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন। আদালত দুই মাস সময় মঞ্জুর করে ৯ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

এদিন মামলায় গ্রেফতার ১৬ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন—
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, সাবেক শিল্প-বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

তবে গ্রেফতারকৃত আরেক আসামি সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁকে এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করতে পারেনি পুলিশ। তাঁর চিকিৎসাজনিত নথিপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।

এই মামলায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। এদের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অন্য মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হওয়ায় প্রসিকিউশন তাঁদের বিষয়ে অব্যাহতি চেয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার, দলীয় ক্যাডার, অনুগত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ সুপরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা গঠন করা হয়। বিভিন্ন সংগঠন, ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থা ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, ভিডিও, ছবি ও নথিপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়।

বর্তমানে ঘটনাগুলোর বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২—এই দুই আদালতে। তদন্ত সংস্থা বলছে, অভিযোগের তালিকা আরও বাড়তে পারে, কারণ এখনো অনেক ভুক্তভোগী তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সামনে আসছেন।

আদালত পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারির তারিখ স্থির করে হাজির আসামিদের কারাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *