
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “একজন বিশেষ কেউ ভালো আর বাকিরা খারাপ—এ ধরনের ধারণা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।” তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছরে এই মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি, যা পরিবর্তন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তারেক রহমান বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে সবাই মতামত প্রকাশের অধিকার রাখে, কিন্তু একজন ভালো আর বাকিরা খারাপ—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আজ সোমবার বিকেলে ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত “দেশ গড়ার পরিকল্পনা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সারাদেশের জেলা পর্যায়ের হাজারের বেশি নেতা অংশগ্রহণ করেন। তিনি সতর্ক করেন, সামনে রাজনৈতিক লড়াই অনেক কঠিন হবে, কারণ বর্তমানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশী মানুষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে স্বৈরাচার বিতাড়িত করার আন্দোলনে প্রাণপণ লড়াই করেছে। গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড সাধারণ মানুষ, যেমন গৃহবধূ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রিকশাচালক, ছাত্র-জনতা এবং শিশুদের অংশগ্রহণে ৬৩ শিশু এই আন্দোলনে প্রাণ হারায়। এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল দেশে জবাবদিহিতার সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যা ধীরে ধীরে দেশের উন্নয়ন ও শুভ পরিবর্তনের পথ সুগম করবে।
তিনি বর্তমান দেশের বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, “পেটের ক্ষুধা, খালি পকেট এবং দৈনন্দিন সমস্যাগুলো প্রতিফলিত করছে, শিল্প-কারখানা বন্ধ হচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায়, হাসপাতাল ও শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে না, রাস্তায় নিরাপত্তা নেই। এই অস্বাভাবিক অবস্থা চলতে পারে না। দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে জবাবদিহিতা ছিল না, তাই গণতন্ত্রই একমাত্র ব্যবস্থা যা সমাজে ও রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল জনগণের জীবন ও ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে চিন্তা ও পরিকল্পনা করে না। দেশ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারী ও সমাজ নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ এবং কর্মপরিকল্পনা শুধুমাত্র বিএনপি করছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষিত হয়েছে। প্রার্থী পছন্দের ওপর নয়, দলের ও দেশের স্বার্থের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ধানের শীষের প্রতি সমর্থন দিয়েই দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব।”
তারেক রহমান ক্ষমতায় গেলে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হয়েছিল। সেচ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এক এলাকার একটি ফসল দুই বা তিনবার উৎপাদন সম্ভব হয়েছিল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সীমিত পরিমাণে রপ্তানি সম্ভব হয়েছিল।
ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনা সফল করতে জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আন্দোলনের সময় যেমন জনগণকে আন্দোলনে যুক্ত করা হয়েছিল, এখনও লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে। “যদি আমরা ৪০ ভাগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হবে। আর বসে থাকার সময় নেই। প্রত্যেক নেতা-নেত্রী দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবেন।”
অনুষ্ঠানটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সভাপতিত্ব করেন এবং আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান (সোহেল) সঞ্চালনা করেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কর্মসংস্থানসহ আটটি খাতে কাজ করার জন্য ধারাবাহিক কর্মশালা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এই কর্মসূচি আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ সহযোগী সংগঠন অংশগ্রহণ করবে।

m¤úv`K I cÖKvkK: G †K Gg gvndzRyi ingvb
cÖavb m¤úv`K: †gvt RvwKi
†nv‡mb
†hvMv‡hvM: 198 wm-eøK, iv‡qievM,
K`gZjx, XvKv- 1362|
†gvevBj: 01612346119,B‡gBj: dhaka24news.top@gmail.com
I‡qemvBU: dhaka24news.top, †dmeyK: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/