নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একজন স্বীকৃত অভিভাবক হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি মনে করেন, এই কঠিন সময়ে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি দেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত “দেশ গড়ার পরিকল্পনা” শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তার অবস্থা খারাপ হয়নি। দেশজুড়ে মানুষের দোয়া ও শুভকামনা তাদের ভালোবাসাকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিভিন্ন এলাকায় দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য আয়োজন করা দোয়া মাহফিল থেকে বোঝা যায়, জনগণের গভীর আকাঙ্ক্ষা তার প্রতি রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আল্লাহর রহমতে খালেদা জিয়া আবারও জনগণের মাঝে ফিরে আসবেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়া এখন আর শুধু বিএনপির নেত্রী নন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাকে দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখে। তার সুস্থতা কামনা করা এখন সারাদেশের মানুষের অন্যতম প্রত্যাশা। তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অচিরেই দেশে ফিরবেন। তার প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিগন্ত তৈরি করবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরও জানান, আজ বিকেল চারটায় লন্ডন থেকে তারেক রহমান ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।
ছোট দলগুলোর সংস্কারের দাবি নিয়ে তিনি বলেন, তারা সংস্কারের কথা বললেও কোন সংস্কার চান তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ছিলেন প্রকৃত সংস্কারক, যিনি ঘোষণা নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিলেন। গার্মেন্টসসহ অনেক ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থানসহ আটটি বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করবে তা তুলে ধরতে ধারাবাহিক কর্মশালা শুরু করেছে দলটি। এ কর্মসূচি শুক্রবার ছাড়া ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন অংশ নেবে। সমাপনী অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অন্য কোনো দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

01612346119