স্থাপত্য মানুষের জীবন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলার সৃজনশীল কর্মযজ্ঞ : শিক্ষা উপদেষ্টা 

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সি আর আবরার বলেছেন, স্থাপত্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ নয়, এটি মানুষের জীবন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলার একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া। তিনি মনে করেন, একে শুধু পেশাগত নকশার কাজ হিসেবে দেখলে এর মূল শক্তি ও সমাজে এর পরিবর্তন ঘটানোর ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ আর্ক সামিট ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সামিটে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, খ্যাতনামা স্থপতি, শিল্পপতি, গবেষক ও চিন্তাবিদরা অংশ নিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের স্থাপত্যচর্চার বিস্তৃতি ও সম্ভাবনাকে আরও সুসংহত করছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত এ বছরের সামিটের প্রতিপাদ্য ‘ক্র্যাফটিং স্পেস, শেপিং হ্যাবিট্যাট’। এই প্রতিপাদ্যে স্থাপত্যের রূপান্তরমূলক শক্তি এবং মানুষের জীবন, সমাজ ও নির্মিত পরিবেশে তার গভীর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষা উপদেষ্টা অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্থাপত্যচর্চার জন্য একটি গতিশীল ও সমৃদ্ধ মঞ্চ তৈরি করার উদ্যোগের জন্য আইএবিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক স্থাপত্য অঙ্গনের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়ানো এবং দেশীয় পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই সামিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামিটে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট স্থপতি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। এটি কেবল আলোচনার পরিসরকে বৈশ্বিক মাত্রা দিচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের স্থাপত্যচর্চার বিস্তার ও নেতৃত্বের পরিচয়ও তুলে ধরছে। আগামী দুই দিন সামিটে টেকসই নগরায়ন, গ্রামীণ অঞ্চলের পুনরুজ্জীবন, জলবায়ু সহনশীলতা, কমিউনিটিকেন্দ্রিক নকশা, উপকরণ ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং ঘন ও উষ্ণমণ্ডলীয় পরিবেশে নগর নকশার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশেষ আলোচনা হবে।

এ ছাড়া দুটি উচ্চপর্যায়ের রাউন্ডটেবিল আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বর্তমান পেশাগত বাস্তবতায় নবীন স্থপতিদের প্রস্তুত করা, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা এবং স্থাপত্য ফার্মগুলোর নীতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জটিলতাগুলো মোকাবেলার কৌশল। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি স্থপতিদের জন্য একটি সুসংহত ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আর্ক সামিট দেশের টেকসই উন্নয়ন, স্থিতিশীল অবকাঠামো ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে আমাদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সামিটে উপস্থাপিত ধারণা, চিন্তা ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তব প্রকল্পে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে তিনি উপদেষ্টা সদস্যদের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত একশটি ঘর নির্মাণের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ বছর প্রায় ৮০০ নতুন স্থপতি আইএবিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নৈতিকতা, সহমর্মিতা, উদ্ভাবনশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নগর, কমিউনিটি ও ভূদৃশ্যকে এগিয়ে নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *