
নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং সেখানকার মানুষের জীবনমান রক্ষার মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আজ রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশের ৬১ জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সবকিছু একইভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা তাদের নিজস্ব পরিবেশের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমতলের মানুষের তুলনায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ বেশি সহনশীলতা দেখিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, পাহাড়ের গায়ে বেড়ে ওঠা ইকো ট্যুরিজম পাহাড়িদের সম্পদ এবং তা রক্ষার দায়িত্ব সবার। কাপ্তাই লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার জন্য অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার আচরণে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যার উদ্দেশ্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব ড. রাশিদা ফেরদৌস। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরল ইসলাম। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ইন্টারভেনশন ম্যানেজার ড. মোহাম্মদ ফারুক আজম, বিআইবিএম-এর সাসটেইনেবল ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মোরশেদ মিল্লাত এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। টেকসই কৃষি, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, বন সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজনমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তারা মনে করেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, সম্পদ ও অধিকার রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
মুক্ত আলোচনা পর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তম, যুগ্মসচিব অতুল সরকার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোস্তফা কামাল, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নাজমুল হুদা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শহীদুল ইসলাম সুমনসহ অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক পর্বত দিবসের তাৎপর্য এবং পাহাড়ি অঞ্চলের সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সমাপনী বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের পরিবেশ রক্ষা এবং সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের আলোচনার সুপারিশগুলো ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনায় কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হবে।

m¤úv`K I cÖKvkK: G †K Gg gvndzRyi ingvb
cÖavb m¤úv`K: †gvt RvwKi
†nv‡mb
†hvMv‡hvM: 198 wm-eøK, iv‡qievM,
K`gZjx, XvKv- 1362|
†gvevBj: 01612346119,B‡gBj: dhaka24news.top@gmail.com
I‡qemvBU: dhaka24news.top, †dmeyK: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/