নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ দলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা রিট আবেদন খারিজ করে আজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলেও দলগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করার বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিল। রিটটি করেন এনডিএমের মহাসচিব মোমিনুল আমিন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিল। মামলার অগ্রগতিতে একপর্যায়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবি পার্টি এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস রিটে পক্ষভুক্ত হয়ে বিধানটির পক্ষে মত দেয়। আজ আদালত রুল খারিজ করে তারই চূড়ান্ত রায় দেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করা এনসিপির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা এবং নাজমুস সাকিব। রায় ঘোষণার পর এনসিপির আইনজীবীরা বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে জোট হয়ে নির্বাচন করলে প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব প্রতীকেই প্রার্থী দিতে হবে, যা রাজনৈতিক পরিচয়কে স্পষ্ট রাখবে।
এদিকে সরকার গত ৩ নভেম্বর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। সংশোধনীতে বলা হয়, যদি একাধিক রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থী দেয়, তবে সেই প্রার্থীকে তার নিজ দলের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ফলে জোটগত সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রতীকভিত্তিক দলীয় পরিচয় অপরিবর্তিত থাকবে। এই সংশোধনীকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এনডিএম রিট দায়ের করে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দলীয় প্রতীকের বাধ্যবাধকতা বজায় থাকলে ভোটারদের কাছে প্রতিটি দলের অবস্থান ও পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকার মনে করে। তবে কিছু রাজনৈতিক দলের মতে, জোটবদ্ধ নির্বাচনে প্রতীক ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা ভোট কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। আজকের রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সরকার সংশোধনী জারি করতে পারে, এবং এ বিধান কার্যকর থাকবে।
আজকের রায়ের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ দলগুলোকে তাদের প্রার্থীদের নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে ভোটে নামাতে হবে। এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দলীয় পরিচয়, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আরও দৃঢ় করবে বলে আইনজীবীরা মন্তব্য করেন।
