বৈজ্ঞানিকভাবে মাছ চাষ খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে: মৎস্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সিবাছ বা কোরাল মাছ চাষ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও মাছের সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের কলাতলিতে অবস্থিত আধুনিক ‘গ্রিন হাউজ মেরিকালচার’ হ্যাচারি পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

উপদেষ্টা বলেন, মাছ থেকে ডিম উৎপাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ধরনের আধুনিক ব্যবস্থাপনা দেশের মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো—এই মাছচাষ শুধু কক্সবাজারের মতো উপকূলীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়; উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর ফলে সারাদেশে মাছ উৎপাদন বাড়বে এবং জাতীয় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

ফরিদা আখতার বলেন, মেরিকালচার বা সামুদ্রিক মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে সরকার নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে। তবে এ খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যত বেশি উদ্যোক্তা যুক্ত হবে, তত বেশি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈজ্ঞানিক মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের আধুনিক ও টেকসই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলবে।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের ‘গ্রিন হাউজ মেরিকালচার’ হ্যাচারি সামুদ্রিক কোরাল মাছের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য অর্জন করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পুকুরে সামুদ্রিক কোরাল মাছ চাষের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ গবেষণা কার্যক্রমে মৎস্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *