নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানের (৪২) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
রোববার আব্দুল হান্নানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিম হাসান আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আব্দুল হান্নানকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয় এবং মামলার প্রাথমিক তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে বিজয়নগর পানির ট্যাংকির দিকে যাওয়ার সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওইদিন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি তার এক সঙ্গীর সঙ্গে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে যাচ্ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা শুরু করে। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে এবং হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর শনাক্ত করে তা বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
রেজিস্ট্রেশন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ মোটরসাইকেলের মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের পরিচয় নিশ্চিত করে এবং তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে দণ্ডবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে জানান, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পরিকল্পনাকারী ও ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস ও হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা উদঘাটন করাও সম্ভব হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

01612346119