নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, মালামাল পরিবহনে সড়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে রেল ও নৌপথের ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন বিবেচনায় সড়ক ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, ফলে তুলনামূলকভাবে সস্তা ও পরিবেশবান্ধব রেল এবং নদীপথ উপেক্ষিত থেকেছে। এখন সময় এসেছে রেল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর। মালামাল পরিবহনে সড়কের কার্যকর বিকল্প হিসেবে এসব মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে।
জাতীয় সমন্বিত বহুমুখী পরিবহন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার ঢাকায় আয়োজিত একটি অংশীজন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আয়োজনে সড়ক ভবন মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, একটি সমন্বিত, টেকসই ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জাতীয় সমন্বিত বহুমুখী পরিবহন মাস্টার প্ল্যান অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া দেশের সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রেল ও অভ্যন্তরীণ নৌপথকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে যানজট, দুর্ঘটনা ও পরিবেশগত ক্ষতিও হ্রাস পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, পরিবহন খাতে সমন্বয়ের অভাবের কারণে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার সমন্বিত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক নৌপথ বা ‘ন্যাচারাল হাইওয়ে’ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে একক পরিবহন মাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক আধুনিক পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, বন্দর ও টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উপস্থাপনায় মাস্টার প্ল্যানের বেসলাইন অ্যাসেসমেন্ট স্টাডি ও কৌশলগত রোডম্যাপ তুলে ধরা হয়। এতে সড়কের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, যানজট, নিরাপত্তা ঝুঁকি, উচ্চ লজিস্টিক ব্যয় এবং রেল ও নৌপথের সীমিত ব্যবহারের মতো প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার, করিডোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ, লাস্ট-মাইল সংযোগ উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সেমিনারের শেষে সিদ্ধান্ত হয়, অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশসমূহ মাস্টার প্ল্যানের পরিমার্জনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা একটি বাস্তবসম্মত, সমন্বিত ও কার্যকর জাতীয় সমন্বিত বহুমুখী পরিবহন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে সহায়ক হবে।

01612346119