নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ইসির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল গত ১১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের আগে ও চলাকালে যেন কোনোভাবেই নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে মাঠ প্রশাসনকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কর্মকাণ্ডে আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি ১৮-এর কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে থেকে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে। এই নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো ধরনের প্রচারণা বা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না, যা নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত প্রচারণা সময়সীমার বাইরে থেকেও নির্বাচনী পরিবেশ ও আচরণ বিধিমালার শর্ত মেনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন, ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা অন্যান্য অনুরূপ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। এসব আয়োজন যেন কোনোভাবেই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে প্রভাব না ফেলে বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, উল্লিখিত ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সম্মতি বা অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। কমিশনের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *