সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম অপপ্রচার শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জে জয় মহাপাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’। ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রমে দেখা গেছে, এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাফ্যাক্ট জানিয়েছে, যাচাই ছাড়া প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

বাংলাফ্যাক্টের তথ্যমতে, সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জয় মহাপাত্র নামে এক যুবক বিষক্রিয়ায় মারা যান। মৃত্যুর পরপরই ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দাবি করা হয়, তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য উল্লেখ না করেই ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্টের যাচাইয়ে উঠে এসেছে, জয় মহাপাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ধর্মীয় কোনো বিষয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু নেই। ঘটনাটি মূলত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে উদ্ভূত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বাংলাফ্যাক্টকে জানান, নিহতের মা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এই ঘটনায় ধর্মীয় কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি এবং অপপ্রচারের দাবিগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো আরও জানিয়েছে, গত বছর থেকে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দেশের কিছু ফেসবুক পেজ থেকে নিয়মিতভাবে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ধরনের অপপ্রচার দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্ট চেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’ নিয়মিতভাবে ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুয়া খবর তারা ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে এবং এসব অপতথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। বাংলাদেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বাংলাফ্যাক্টের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *