নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “দেশের গণতন্ত্র এখনও চূড়ান্তভাবে নিরাপদ নয়। একটি শক্তি এখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশের গণতন্ত্রকে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের লড়াই এখনো শেষ হয়নি, এবং মানুষের ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে, তারা এই লড়াইয়ের ফল ভোগ করতে পারবেন।
আজ সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল শাখা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলে এ মন্তব্য করেন ডা. রফিক। তিনি জানান, এই মুহূর্তে দেশে একটি শক্তি এখনও শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করতে নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের কাছে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যাতে গণতন্ত্রের পথে আরও বাধা সৃষ্টি না হয় এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে পারে।
বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে ডা. রফিক বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় অসংখ্য মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে তিনি পুরান ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে আসতেন। তখন আমরা বহু নেতাকর্মী তার গাড়ির বহরকে এগিয়ে দিতাম। তিনি শুধু বিএনপির নন, সব দলের কাছেই ছিলেন আস্থাভাজন একজন গণতান্ত্রিক নেত্রী।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া নিজেকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রেখেছিলেন এবং তার জীবন ছিল গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতীক।
ডা. রফিক বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিদেশে পাঠানোর সব চক্রান্ত উপেক্ষা করে বেগম জিয়া দেশের মাটি ও মানুষের কথা ভেবে দেশ ছাড়েননি।” তিনি বলেন, বেগম জিয়া সবসময় দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তার রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অবস্থান ছিল মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তার মতে, বেগম জিয়া দেশের জন্য নিবেদিত একজন নেতা ছিলেন, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে দেশের মানুষের সেবা করেছেন।
ডা. রফিক আরও বলেন, “নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ইতিহাসে অমলিন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামও তার সরকারের অবদান।” তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছিল এবং এভাবেই তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. রফিক বলেন, “মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান এখন দেশে আছেন। তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।” তিনি শেষ পর্যন্ত সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান, যাতে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে পায় এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

01612346119