নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ এমন একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করে যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন এবং সেই ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যাবে। এ জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপনকে তিনি অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে এসব ব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন সব সমস্যার সমাধান নয়, তবে এটি একটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের সূচনা। তাঁর ভাষায়, “একটি ফেয়ার ইলেকশন মানে ফেয়ার সোসাইটির বীজ বপন।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের সমঝোতার নির্বাচন বা পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচন চায় না। বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোতে প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। আগামী নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম ব্যবস্থার আশ্রয় না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণ কার্যত ভোট দিতে পারেনি। তবে আগামী নির্বাচনে ভোটারদের জন্য যদি বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় এবং ভোটের প্রতিফলন যদি ফলাফলে পাওয়া যায়, তবেই সেটিকে সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যাবে। তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ওই সময় সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল অবস্থানের কারণেই দেশ একটি সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখের ঘটনাবলির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা না রাখলে আজকের বাংলাদেশ ভিন্ন রূপ নিতে পারত। তিনি আরও বলেন, ঐ আন্দোলনে সব দল-মতের মানুষ অংশ নিয়েছিল এবং জামায়াতে ইসলামী কোনো কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করেনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী মাসের ১২ তারিখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং হাতে সময় খুবই সীমিত। তিনি জানান, তরুণদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার তারা ভোট দিতে পারবে এবং সেই ভোট রক্ষার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন তুলে ধরেন, যেখানে তরুণরা কাজের সুযোগ পাবে, দুর্নীতি কমবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য শুধু দলীয় বিজয় নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি ও একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

01612346119