নির্বাচনে প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার: প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। বিপুলসংখ্যক ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২২০ জন ভোটার। ভোটার তালিকায় সব শ্রেণি ও লিঙ্গের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে নির্বাচন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে ইসি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

এবারের নির্বাচনে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। ভোটারের এই অসম বণ্টন নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারণায় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) এবং নির্বাচন কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলাম বাসসকে জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, “সব প্রস্তুতি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোচ্ছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৭৫ জন। বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ২৯১ জন প্রার্থী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যাদের হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৫৮ জন

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র ৩২ জন প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। প্রতীকভিত্তিক এই অংশগ্রহণ ভোটারদের মধ্যে ভিন্নমাত্রার আগ্রহ তৈরি করছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী একই প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসি সূত্র জানায়, ৭৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, যা এবারের নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বিপুলসংখ্যক ভোটার, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে। এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *