বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিদের জাতীয় সংসদে শপথগ্রহণ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ শপথ অনুষ্ঠানটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ ও সুসংগঠিত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, যিনি পুরো কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনা করেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

প্রথমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-সহ দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। শপথবাক্য পাঠ শেষে তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন, যা তাদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগ্রহণের প্রতীকী ও আইনগত স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও প্রত্যাশার আবহ, কারণ নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

বিএনপি নেতারা তাদের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদার, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শপথ গ্রহণের এই ধাপ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও শপথ পাঠ করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সদস্য এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান এবং প্রত্যেক সদস্য শপথ বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলা ও আনুষ্ঠানিকতার পরিবেশ বজায় ছিল এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো এবং আগামী দিনগুলোতে আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় আলোচনা প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে বিরোধী ও সরকারি দলের ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়েও জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

নতুন সংসদ সদস্যদের সামনে রয়েছে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বড় চ্যালেঞ্জ। শপথ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা যে সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *