“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নারী হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম

দেড় মাস পর এআই প্রযুক্তিতে ধরা পড়ল চার ঘাতক

মোঃ জুয়েল হোসেন
জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ

নওগাঁয় মিতু বানু নামের এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে দীর্ঘ দেড় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জাহান আলী, সামিদুল, সুজ্জাত ও রেন্টু ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি নওগাঁ সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হলে জানা যায়, তার নাম মিতু বানু। এরপরই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, মাত্র ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে মিতুকে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপে বাধা দেওয়া এবং টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে আসামিরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর রেন্টু ইসলামের পরামর্শে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লাশটি সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, “এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। তবে আমাদের তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে ঘটনার সূত্র বের করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সামিদুল ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”

পুলিশ আরও জানায়, মিতুকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে লাশ গুম করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে এই চারজন সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। ঘটনার পর তারা দেড় মাস ধরে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *