আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। দেশটির ১২৫ বছরের সামরিক ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুজান কয়েল-কে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস।

বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ার
লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুজান কয়েল তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক বাহিনীতে কাজ করছেন। তার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সব মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন:
- মিশনসমূহ: তিনি সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, আফগানিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- অভিজ্ঞতা: সাইবার যুদ্ধ এবং আধুনিক সমরকৌশল বিষয়ে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস সাংবাদিকদের বলেন, “সুজান কয়েলের এই অর্জন অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” তিনি আরও জানান, সুজান কয়েল নিজেই তাকে বলেছেন—“যা দেখা যায় না, তা হওয়ার স্বপ্নও কেউ দেখে না।” অর্থাৎ, তার এই নিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী এক বড় ধরনের পরিবর্তনের (Transformation) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাহিনীটি নিজেদের সজ্জিত করছে:
- প্রযুক্তি: দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধ-সরঞ্জাম সংযোজন করা হচ্ছে।
- সাইবার ডিফেন্স: সাইবার যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুজান কয়েল বলেন, “আমার অর্জিত বহুমুখী অভিজ্ঞতা এই নতুন দায়িত্ব পালনে এবং জনগণের আস্থা সুরক্ষায় একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।”
সারসংক্ষেপ: সুজান কয়েলের এই নিয়োগ কেবল অস্ট্রেলিয়ার নারীশক্তির জয়গান নয়, বরং আধুনিক ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এক সেনাবাহিনী গড়ার পথে দেশটির একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119