
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ববাজারে চলমান অস্থিরতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করায় পরিবহন খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির পরপরই বাস ও ট্রাক মালিকরা ভাড়া পুনর্নির্ধারণের দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, শুধু ডিজেলের দাম নয়—গাড়ির যন্ত্রাংশ, টায়ার, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাংক ঋণের সুদসহ সব খরচই বেড়েছে। ফলে বর্তমান ভাড়ায় পরিবহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন ঘোষণায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানবাহন ও গণপরিবহনে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, বর্তমান দূরপাল্লার বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ১২ পয়সা, যা বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই তারা নতুন করে প্রতি কিলোমিটার ৪ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিতে চান। একাধিক মালিক জানিয়েছেন, সরকারকে দ্রুত বৈঠকে বসে নতুন ভাড়া কাঠামো ঘোষণা করতে হবে। না হলে অনেক পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ বড় ধরনের জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ২০২২ সালের ৫ আগস্ট। সে সময় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বৃদ্ধি। তখন বাস মালিকরা দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৮০ পয়সা ভাড়া চাইলেও সরকার নির্ধারণ করেছিল ২ টাকা ২০ পয়সা। পরে ২০২৫ সালের জুনে তা কমিয়ে ২ টাকা ১২ পয়সা করা হয়। এবার নতুন করে ডিজেলের দাম বাড়ায় আবারও ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জোরালো হয়েছে।
বাস মালিকদের অভিযোগ, দেশে শুধু তেলের দাম বাড়লেই ভাড়া বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু অন্যান্য খরচ বাড়লেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয় না।
তাদের হিসাবে—
একজন বাস মালিক বলেন, “মাস শেষে গাড়ির আয় দিয়ে খরচই ওঠে না। ভাড়া না বাড়ালে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে যাবে।”
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, ২০২২ সালে একটি বাসের চেসিস কিনতে লাগত প্রায় ২৪ লাখ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। একইভাবে বাসের বডি তৈরির খরচ ১১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, শুধু একটি বাস তৈরি করতেই এখন অতিরিক্ত ২০-২১ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদও ৯ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে নতুন বাস কেনা কিংবা পুরোনো বাস চালু রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিবহন নেতারা বলছেন, আগেই তারা সরকারের কাছে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা ছিল ডলারের দাম বৃদ্ধি ও যন্ত্রাংশ আমদানি ব্যয় বিবেচনায়। এখন ডিজেলের নতুন দাম যুক্ত করে তারা ৪ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত প্রস্তাব দিতে চান। তবে এখনো সরকারিভাবে বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বুয়েটের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, সরকার চাইলে প্রতিবছর বাজেটের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ কস্টিং করে বাস ভাড়া নির্ধারণ করতে পারে।
তার মতে—
তিনি বলেন, “এভাবে হঠাৎ হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো বা কমানোর সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার।”
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তার ভাষায়—
তিনি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ফলে ব্যবসায়ীরা সব পণ্যের দাম বাড়ানোর অজুহাত পেয়ে গেছে।
তার মতে—
নতুন জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ অতীতে দেখা গেছে, জ্বালানির দাম বাড়লেই—
ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
পরিবহন মালিকরা দ্রুত ভাড়া বৃদ্ধির দাবি তুললেও সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। তবে জ্বালানির নতুন দামের প্রভাব আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাজার, পরিবহন ও নিত্যপণ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: এ কে এম মাহফুজুর রহমান
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/