
নিজস্ব প্রতিনিধি
আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে নিয়োগের বয়সসীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন আখতার হোসেন। তার অভিযোগ, এই সংশোধনী কি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে—এ নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনের ২৫তম দিনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় সদ্য পাস হওয়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন।
আখতার হোসেন বলেন, সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আইন পাস করা তাদের জন্য সহজ হলেও, সংশোধনীগুলোর প্রভাব অনেক গভীর। তিনি উল্লেখ করেন, আগে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য বয়সসীমা ছিল ৬৫ বছর এবং আইডিআরএ’র ক্ষেত্রে ৬৭ বছর। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, সরকারের যুক্তি হলো—যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। তবে বাস্তবে এটি কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে পদে বসানোর পথ তৈরি করছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, “এটি কি একটি দীর্ঘমেয়াদি নীতির অংশ, নাকি নির্দিষ্ট কাউকে সামনে রেখে আইন পরিবর্তন করা হচ্ছে—জাতি তা জানতে চায়।”
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিতে আইন পরিবর্তনের নজির রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন বহন করতে হয়েছে। শেয়ারবাজার ও বীমা খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আখতার হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা ব্যক্তিগত বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, “দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছ রাখাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। যদি এখানে স্বচ্ছতা বজায় না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের লুটপাটের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।”
শেষে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সরকারের পক্ষ থেকে ‘যোগ্য ও সৎ ব্যক্তি নিয়োগ’-এর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/