
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বাস্তবতার নাম শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি। যে বয়সে হাতে বই থাকার কথা, সেই বয়সে স্মার্ট ডিভাইসের নীল আলোয় ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ। এক সময়ের খেলার মাঠের কোলাহল এখন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চার ইঞ্চি পর্দার ডিজিটাল গোলকধাঁধায়। এই অবাধ ও নিয়ন্ত্রণহীন ভার্চুয়াল জগত আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছে এক ভয়াবহ অন্ধকারের দিকে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো (ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব) এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ট্রিলিয়ন ডলারের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর মনোযোগ সর্বোচ্চ সময় ধরে রাখতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও মারাত্মক। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে:
বাংলাদেশে কিশোর অপরাধ বা 'কিশোর গ্যাং' কালচার বিস্তারে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা এখন প্রমাণিত।
সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতি কেবল অভিভাবকের তদারকি দিয়ে ঠেকানো সম্ভব নয়—এই সত্যটি এখন উন্নত বিশ্ব স্বীকার করে নিয়েছে। ফলে দেশে দেশে শুরু হয়েছে কঠোর আইনি নিয়ন্ত্রণ:
সারাবিশ্ব কঠোর পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশের অবস্থান এ ক্ষেত্রে এখনো উদাসীন। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে:
অনেক সময় মা-বাবারা শিশুদের শান্ত রাখতে বা খাওয়ানোর 'শর্টকাট' হিসেবে হাতে মোবাইল তুলে দেন। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদী আসক্তি তৈরি করছে। তবে একটি সাধারণ পরিবারের পক্ষে বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্টদের জটিল অ্যালগরিদমের সাথে লড়াই করা প্রায় অসম্ভব। তাই এক্ষেত্রে কেবল অভিভাবকদের সচেতনতাই যথেষ্ট নয়, রাষ্ট্রেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের শিশুদের জীবনীশক্তি কেড়ে নিচ্ছে, নষ্ট করছে বই পড়ার অভ্যাস। এই সমস্যাকে উপেক্ষা করার আর সুযোগ নেই। আমাদের শিশু-কিশোরদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সোশ্যাল মিডিয়াকে একটি কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে আনা এখন সময়ের দাবি। সরকারের উচিত হবে এই বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা।
লেখক: লেখক ও নাট্যকার
ইমেইলঃ auditekarim@gmail.com
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/