
‘এলাকাজুড়ে আতঙ্কের নাম নান্নু’—অভিযোগ স্থানীয়দের
এ.বি.এম.হাবিবুর রহমান
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ সদর উপজেলার ৪নং তিলকপুর ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর প্রবাসী মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, তিলকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি ও ইউপি সদস্য ইয়াছিন আলী নান্নুর প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ও নির্দেশেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এলাকায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করায় ইয়াছিন আলী নান্নুকে স্থানীয়রা এখন 'আতঙ্কের নাম' হিসেবে অভিহিত করছেন।
শহরের স্থানীয় এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে নিহত মাসুম বিল্লাহর মা, পূর্বে নান্নু বাহিনীর হাতে খুন হওয়া ভুক্তভোগীদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে (২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিলকপুর রেলগেট খিরাহাটির পশ্চিমে পাকা রাস্তায় মাসুম বিল্লাহ ও তার বন্ধু রাজ মোটরসাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন। ৫ নম্বর আসামি ইয়াছিন আলী নান্নুর অফিসের সামনে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা মাসুমের ওপর চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো রামদা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজকে তাড়িয়ে দিয়ে মাসুমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং কাঁধের অংশ কেটে ঝুলিয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যায়। নিহত মাসুম দীর্ঘ ৭ বছর প্রবাসে থাকার পর সম্প্রতি দেশে এসেছিলেন। এই ঘটনায় জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানায় মাসুমের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে নিহত মাসুমের মা রুমি আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, "জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চিহ্নিত খুনিরা আমার একমাত্র ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই খুনিরা এর আগেও এলাকায় একাধিক খুন করেছে। আগের খুনের বিচার হলে আজ আমার ছেলেকে জীবন দিতে হতো না।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ নম্বর আসামি নান্নুর পালিত গুন্ডারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
একই মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা বীথি আক্তার অভিযোগ করেন, এই নান্নু মেম্বার ও তার বাহিনী তার ভাই রতনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, নান্নুর বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য সোহেলকে মারধর, চাঁদা না দেওয়ায় এমদাদ মেম্বারের হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করা, মহিলা মেম্বার হিরার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের গোডাউন ও খামার লুটপাটের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ইয়াছিন আলী নান্নু মূলত পাবনা থেকে তিলকপুরে এসে কুলিগিরি শুরু করেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দুই জেলার অপরাধীদের নিয়ে তিনি এক বিশাল 'ত্রাস সিন্ডিকেট' গড়ে তুলেছেন। তার ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ থানায় মামলা করার সাহস পায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, "বিএনপি একটি বৃহৎ ও জনপ্রিয় দল। নান্নুর ব্যক্তিগত কোনো অপকর্ম ও কুকর্মের দায়ভার দল নেবে না। তার এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।" সচেতন বিএনপি নেতৃবৃন্দও নান্নুকে দল থেকে বহিষ্কার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ইয়াছিন আলী নান্নু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি একজন ভদ্র মানুষ। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে দলের ভেতরের কিছু লোক অপপ্রচার চালাচ্ছে।" বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অপরাধ ও সাংবাদিকের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে তিনি মৃদু হুমকি দিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।
মাসুম ও রতন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গণেশ জানান, "মাসুম হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি মোস্তফাকে গ্রেফতার করে ১ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।" ৫ নম্বর আসামি নান্নুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইয়াছিন আলী নান্নু উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/