প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৯, ২০২৬, ১:৪৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৫, ২০২৬, ৩:২৯ এ.এম
ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ছিল ফ্রান্স। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দাপট দেখিয়েই তারা সেমিফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে স্পেনের সামনে তারা ছিল পুরোপুরি অসহায়। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথমবার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে পা রাখল লা রোজারা।
ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেয়া
প্রথমার্ধের লড়াই ও স্পেনের লিড
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। তবে প্রথমার্ধে স্পেনের কৌশলের কাছে পরাস্ত হয় ফরাসিরা।
৯ম মিনিট: ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি-কিক আদায় করেন স্পেনের দানি ওলমো। আলেক্স বায়েনার নেওয়া কিকটি ফ্রান্সের রক্ষণদেয়ালে লেগে ফিরে আসে।
১৪তম মিনিট: কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক সুযোগ পায় ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন। সামনে ছিলেন কেবল পেড্রো পোরো ও গোলরক্ষক উনাই সিমন। তবে কুবারসি ও লাপোর্তে নিজেদের পজিশন ধরে রেখে এমবাপেকে রুখে দেন।
২০তম মিনিট (পেনাল্টি আদায়): ম্যাচের ২০তম মিনিটে পেনাল্টি পায় স্পেন। কুকুরেয়ার বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন ফরাসি লেফটব্যাক লুকা দিনিয়ে। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন এবং সামনে থাকা ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩য় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি আদায়ের রেকর্ড গড়েন ইয়ামাল (১৯ বছর ১ দিন)।
২৩তম মিনিট (প্রথম গোল): পেনাল্টি থেকে স্পেনের হয়ে প্রথম গোলটি করেন রিয়াল সোসিয়াদাদ তারকা মিকেল ওয়ারসাবাল। তার নেওয়া নিখুঁত শটটি ডান কোণ দিয়ে জালে জড়ায়। ফরাসি কিপার মাইক মাগনিয়ঁ সঠিক দিকে ঝাঁপ দিলেও বলের নাগাল পাননি।
২৯তম মিনিট (ফ্রান্সের চোটের ধাক্কা): পিছিয়ে পড়ার পর দলের অন্যতম সেরা সেন্টার ব্যাক সালিবা ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়লে মহাবিপদে পড়ে ফ্রান্স। বাধ্য হয়ে দিদিয়ের দেশম তার পরিবর্তে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়াকে মাঠে নামান।
৩৬-৪০তম মিনিট: ৩৬ মিনিটে বায়েনার শট অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পরের মিনিটে ফ্রান্সের বারকোলার ডান পায়ের বাঁকানো শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৩৯ মিনিটে ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামাল হয়ে বল পান ফাবিয়ান রুইজ, তবে তার শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
৪৩তম মিনিট: সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স, কিন্তু এমবাপের পায়ে বল পৌঁছানোর আগেই স্প্যানিশ কিপার সিমন দ্রুত বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেন। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119
দ্বিতীয়ার্ধ: স্পেনের ব্যবধান দ্বিগুণ ও ফরাসিদের ব্যর্থ চেষ্টা
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আধিপত্য বজায় থাকে এবং ৫৮ মিনিটে তারা দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয়।
৫৮তম মিনিট (দ্বিতীয় গোল): কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া করেছিলেন ওলমো। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে ফিরে আসে। পোরো ওলমোর সাথে দারুণ ওয়ান-টু খেলে ফরাসি গোলরক্ষক মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান (২-০)।
৬১তম মিনিট (বাতিল গোল): একক প্রচেষ্টায় দারুণ এক গোল করেছিলেন ইয়ামাল। তবে লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় গোলটি বাতিল হয়। শেষ ডিফেন্ডার দিনিয়ে থেকে মাত্র কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিলেন বার্সা তারকা।
৬৮-৮০তম মিনিট: ৬৮ মিনিটে এমবাপের একটি শট ব্লক করেন কুকুরেয়া। ৮০ মিনিটে বদলি নামা ফেরান তোরেসের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে চলে গেলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারায় স্পেন।
শেষ ১০ মিনিটের নাটকীয়তা
ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। কিন্তু স্প্যানিশ রক্ষণভাগের দেয়াল ও গোলকিপার সিমনের দক্ষতায় বারবার ব্যর্থ হয় ফরাসি আক্রমণভাগ।
৮২তম মিনিট: স্প্যানিশ কিপার সিমন ভুল করে বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করতে যান। তবে ফরাসিদের শট রুখতে তিনি দ্রুত নিজের বক্সে ফিরে এসে অসাধারণভাবে বল ব্লক করেন।
৮৩তম মিনিট: থিও হার্নান্দেজের একটি জোরালো আক্রমণ রুখে দেন সিমন।
৮৯-৯০তম মিনিট: ৮৯ মিনিটে এমবাপের নেওয়া শট গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ভেতর থেকে এমবাপের আরেকটি বিপজ্জনক শট দারুণ দক্ষতায় ক্লিয়ার করেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া।
আরও পড়ুন
ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে ওঠার উল্লাসে মাতে স্পেন। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার ফ্রান্সকে চোখের জল ফেলে বিদায় নিতে হয় সেমিফাইনাল থেকেই। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বজয়ের ট্রফি ছোঁয়ার সোনালী সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে এখন লা রোজারা।