
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে সংকটে রয়েছে কিয়েভ। এবার সেই সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ইন্টারসেপ্টর নিজ দেশে উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের দেওয়া এক অডিও বার্তায় জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছেন যে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে তিনি ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্সের বিষয়ে ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর চেয়ে আসছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজেদের ভূখণ্ডে এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতিও চেয়ে আসছিল কিয়েভ।
প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। ইউক্রেনের জন্য বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এ ব্যবস্থার গুরুত্ব বেশি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কয়েক দফা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
এর আগে জুলাইয়ে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের সময় জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
২৫ সেপ্টেম্বর জেলেনস্কির বক্তব্যে সেই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে বলে জানা যায়। তবে ইউক্রেনে ঠিক কবে থেকে উৎপাদন শুরু হবে এবং উৎপাদনের পরিমাণ কত হবে—এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, লাইসেন্সের আওতায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার কোন কোন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা যাবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত স্পষ্টতা নেই। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা আরও সক্ষম PAC-3 এবং তুলনামূলক পুরোনো PAC-2 ইন্টারসেপ্টর—দুই ধরনের উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
অর্থাৎ লাইসেন্স পাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রতিটি উপাদান ইউক্রেনেই তৈরি হবে। রাডার, লঞ্চারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অংশীদারদের ওপর কিয়েভের নির্ভরতা থাকতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য প্যাট্রিয়ট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হওয়ায় এর ইন্টারসেপ্টরের পর্যাপ্ত সরবরাহকে কিয়েভ অত্যন্ত জরুরি বলে বিবেচনা করে।
এদিকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা চাহিদার কারণেও সরবরাহের ওপর চাপ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
লাইসেন্স পাওয়ার পরপরই ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু হবে—এমন নয়। নতুন উৎপাদন অবকাঠামো স্থাপন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় শিল্প সক্ষমতা তৈরি করতে সময় লাগবে।
সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ফলে লাইসেন্সের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করবে না।
প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের লাইসেন্স ইউক্রেনের জন্য শুধু অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার সুযোগ নয়; এটি দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোরও একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে চূড়ান্ত উৎপাদন কাঠামো, প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিধি, কোন মডেলের ইন্টারসেপ্টর তৈরি হবে এবং কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে—এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে প্যাট্রিয়টসহ বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নতুন লাইসেন্স কার্যকর হলে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশ থেকে সরাসরি সরবরাহের ওপর দেশটির নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/