
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
মৃত গরু জবাই করে মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার রনি নামে এক কসাই ও তার এক সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। ফরিদপুর উপজেলার কাশেমের বটতলা এলাকায় সিএনজিযোগে গরুর মাংস নিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র পচা দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা সিএনজিটি থামিয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গভীর রাতে একটি সিএনজিযোগে গরুর মাংসের মতো দেখতে কিছু নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িটি থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহজনক মনে হলে তারা সিএনজিটির গতিরোধ করেন।
পরে কাছে গিয়ে দুর্গন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়রা ফরিদপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিতে থাকা রনি কসাই ও তার এক সহযোগীকে আটক করে।
স্থানীয়দের দাবি, সিএনজিতে থাকা গরুটি সদ্য জবাই করা অবস্থায় থাকলেও গরুটি জীবিত অবস্থায় জবাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, গরুটি আগেই মারা গিয়েছিল এবং পরে সেটি জবাই করে মাংস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তবে গরুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কখন মারা গেছে এবং এরপর কখন জবাই করা হয়েছে—এসব বিষয় এখনো তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশি পরীক্ষা ও তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঘটনার পর স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ উঠেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের এক খামারির গরু অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর একটি চক্র সেটি সংগ্রহ করে রনি কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গরুটির ওজন আনুমানিক চার থেকে পাঁচ মণ ছিল এবং প্রায় ৪০ হাজার টাকায় গরুটির কেনাবেচা হয়।
তবে গরুটির প্রকৃত মালিক কে, গরুটি কী কারণে মারা যায়, কার মাধ্যমে সেটি বিক্রি করা হয় এবং ওই লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর বেরিয়ে আসতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রনি কসাই দীর্ঘদিন ধরে মৃত গবাদিপশু সংগ্রহ করে জবাই এবং মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, সাঁথিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এসব মাংস সাধারণ ক্রেতা কিংবা বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে তদন্তের বিষয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যদি তদন্তে মৃত গবাদিপশুর মাংস জীবিত গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং ভোক্তাদের প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মৃত গরুর মাংস সংগ্রহ, জবাই ও বিক্রির সঙ্গে কোনো চক্র জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে সাঁথিয়া, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরসহ আশপাশের এলাকায় মৃত গবাদিপশু সংগ্রহ করে মাংস হিসেবে বিক্রির কোনো সংগঠিত কার্যক্রম রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রনি কসাই ও তার সহযোগীকে আটকের পর সিএনজিতে থাকা গরুর দেহাবশেষ বা মাংস পরীক্ষা, গরুটির মালিকানা ও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
এ ঘটনায় ফরিদপুর থানা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, মামলা কিংবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তে মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই পুরো ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ঘটনাটির তদন্ত ও পুলিশের পরবর্তী বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/