
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিয়মিত এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকেরা। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ অংশের কাঁচপুর থেকে ভুলতা গাউছিয়া ও সাওঘাট পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিনই থেমে থেমে যানজট দেখা দিচ্ছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ড, উল্টো পথে যান চলাচল, সড়কের পাশে হকারদের দখল এবং বিভিন্ন লিংক রোড থেকে যানবাহন মহাসড়কে ওঠানামার কারণে নিয়মিত যানজট তৈরি হচ্ছে। দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
তবে যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব। এরই মধ্যে পূজাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
দুর্গাপূজার ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করবেন। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়তে পারে।
নিয়মিত এই মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচপুর থেকে ভুলতা গাউছিয়া পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন সময়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
কখনও কয়েক মিনিটের জন্য যান চলাচল ধীর হয়ে এলেও অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ যানবাহন আটকে থাকে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় নিয়ে এই পথ পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্তে গাড়ি আটকে যাওয়া, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং স্থানীয় যানবাহনের অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রূপগঞ্জ অংশে অন্তত ছয়টি স্থানে নিয়মিত যানজট তৈরি হচ্ছে। এসব এলাকায় সড়কের ওপর বা আশপাশে অবৈধ স্ট্যান্ড, লিংক রোডের যানবাহন, যাত্রী ওঠানামা ও রাস্তা দখলের কারণে মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।
কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড: কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লিংক রোডে যানবাহনের চাপ থাকে। মদনপুর ও শিমরাইল এলাকা থেকে আসা সিএনজি ও অটোরিকশার একটি অংশ উল্টো পথে মহাসড়কে প্রবেশ করায় এখানে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়।
বরাবো বাসস্ট্যান্ড: সড়কের খানাখন্দের পাশাপাশি উভয় পাশের লিংক রোডের মুখে লেগুনা, ইজিবাইক ও রিকশার জট থাকে। এতে মূল মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের গতি কমে যায়।
রূপসী বাসস্ট্যান্ড: কাঞ্চন সড়কের সঙ্গে মহাসড়কের সংযোগস্থলে বিপুলসংখ্যক মালবাহী ট্রাক, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ওঠানামা করে। এতে মূল সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
বরপা বাসস্ট্যান্ড: বরপা-মহজমপুর সড়কের মুখে মহাসড়কের প্রবেশপথের আশপাশে বিভিন্ন যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। লেগুনা ও ইজিবাইকের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবহনের স্টপেজ থাকায় এখানে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়।
আউখাব এলাকা: কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের রাস্তা পারাপারের সময় দিনে একাধিকবার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ বা ধীর হয়ে যায়। এতে সৃষ্ট যানজট অনেক সময় দীর্ঘ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভুলতা-সাওঘাট: এই এলাকায় রাস্তার পাশে হকারদের বসা, ফুটপাতের অভাব এবং বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহনের মোড় নেওয়ার কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে। ফলে এখানে নিয়মিত যানজট দেখা যায়।
মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে লোকাল পরিবহনের একাধিক স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মহাসড়কের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, লেগুনা-ইজিবাইক ও সিএনজির যত্রতত্র অবস্থান এবং লিংক রোড থেকে সরাসরি মহাসড়কে ওঠানামার কারণে পেছনে থাকা যানবাহনগুলো আটকে যাচ্ছে।
ফলে একটি স্থানে সামান্য যানজট তৈরি হলেই তা দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ভুলতা গাউছিয়া থেকে প্রতিদিন যাত্রাবাড়ী যাতায়াত করেন বাদল হোসেন। তিনি বলেন, কাঁচপুর থেকে সাওঘাট পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। পূজার ছুটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরেক যাত্রী বলেন, মাধবদী থেকে যাত্রাবাড়ী যেতে স্বাভাবিক সময়ে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় যানজটে আটকে গেলে শুধু এই অংশ পার হতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।
সিএনজিচালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ভুলতা গাউছিয়া থেকে স্টাফ কোয়ার্টার ও শিমরাইল এলাকায় যাত্রী পরিবহন করেন তিনি। পূজার সময় সাধারণত যাত্রীর সংখ্যা বাড়ে। এতে আয় বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও দীর্ঘ যানজট হলে সেই বাড়তি আয়ের সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
মেঘলা পরিবহনের চালক তাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ভুলতা গাউছিয়া, বরপা, রূপসী ও বরাবো এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই যানজট থাকে। সড়কে ট্রাফিক পুলিশের আরও কার্যকর উপস্থিতি প্রয়োজন। পূজার ছুটিতে যানবাহনের চাপ বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।
শিমরাইল ট্রাফিক পুলিশের টিআই জুলহাস উদ্দিন জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজের পাশাপাশি চালকদের আইন না মানা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণেও যানজট হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের যথেষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, পূজার সময়ে এই মহাসড়কে মানুষের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক রাখা সম্ভব হবে।
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের টিআই জসিমউদ্দিন বলেন, সাওঘাট থেকে ভুলতা গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক দখল করে বসা হকারদের উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আউখাব হারভেস্ট গার্মেন্টস এলাকায় কারখানা ছুটির সময় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে ভুলতা গাউছিয়া-সাওঘাট পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশে স্বাভাবিক সময়েই যখন যানজট নিত্যদিনের সমস্যা, তখন পূজার ছুটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, সড়কের ওপর যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধ, উল্টো পথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, হকার উচ্ছেদ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা গেলে যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন আসন্ন দুর্গাপূজার ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/