
ইসলাম ডেস্ক
পবিত্রতা ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। মানুষের ইবাদত, আচার-আচরণ ও আত্মিক উন্নতির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ওজু, গোসল ও নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ ইবাদতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। একই সঙ্গে পাপাচার থেকে দূরে থাকা, নিন্দনীয় চরিত্র বর্জন করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর মোহ থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখাও পবিত্রতারই অংশ। এভাবে পবিত্রতা মানুষের বাহ্যিক জীবন থেকে শুরু করে তার অন্তরের গভীরতম স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন দেহ, মন, চরিত্র ও আত্মিক প্রবণতায় পরিচ্ছন্ন হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।
ইমাম গাজালি (রহ.) পবিত্রতার এই ব্যাপকতাকে চারটি স্তরে ব্যাখ্যা করেছেন। নিম্নে এই চারটি স্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. বাহ্যিক পবিত্রতা
বাহ্যিক পবিত্রতা বলতে নিজেকে হাদাস (ওজু ও গোসলের আবশ্যকতা সৃষ্টিকারী অপবিত্রতা) এবং শরীর ও পোশাককে খাবাস (দৃশ্যমান নাপাকি) থেকে পবিত্র রাখাকে বোঝায় । এই পবিত্রতা অর্জন ছাড়া ইবাদত করা যায় না। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর উপযুক্ততা অর্জন করে এবং দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলে।
২. কর্মের পবিত্রতা
মানুষের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আল্লাহর দেওয়া আমানত। এগুলোর যথাযথ ব্যবহার যেমন ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, তেমনই অন্যায় কাজে ব্যবহার করা গোনাহের কারণ। চোখের পবিত্রতা হলো হারাম দৃষ্টি থেকে বিরত থাকা, জিহ্বার পবিত্রতা হলো মিথ্যা, গিবত ও অপবাদ থেকে বেঁচে থাকা, আর হাত-পায়ের পবিত্রতা হলো অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজ থেকে দূরে থাকা। এভাবে শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে পাপাচার থেকে মুক্ত রাখাই কর্মের পবিত্রতা। একজন মুমিনের ইমানি জীবনে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেননা, বাহ্যিকভাবে পবিত্রতা অর্জনের পাশাপাশি নিজের কাজকর্মকে অন্যায় থেকে মুক্ত রাখাও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শর্ত।
৩. অন্তরের পবিত্রতা
মানুষের কাজকর্মের উৎস তার অন্তর। অন্তরে যে চিন্তা, বিশ্বাস ও প্রবণতা লালিত হয়, তা-ই এক সময় তার আচরণে প্রকাশ পায়। তাই অন্তরকে হিংসা, অহংকার, আত্মগর্ব, বিদ্বেষ, লোভ ও লোকদেখানো মনোভাবের মতো নিন্দনীয় স্বভাব থেকে পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হওয়া, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গর্ব না করা এবং মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ইবাদত না করাও অন্তরের পবিত্রতার অংশ। একজন মুমিনের বাহ্যিক আচরণ যতই সুন্দর হোক, অন্তর নিন্দনীয় প্রবণতায় আচ্ছন্ন থাকলে তার আত্মিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নিজের অন্তরের অবস্থা যাচাই করা এবং নিকৃষ্ট স্বভাবগুলো সংশোধনের চেষ্টা করা ইমানি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
৪. আধ্যাত্মিক পবিত্রতা
পবিত্রতার সর্বোচ্চ স্তর হলো অন্তরের অন্তস্থলকে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য সবকিছুর প্রতি আসক্তি থেকে মুক্ত রাখা। মানুষের বাহ্যিক জীবন যেমন নানা প্রয়োজন ও সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত, তেমনই তার অন্তরেও বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসা জায়গা করে নেয়। কিন্তু একজন মুমিনের অন্তরের গভীরতম ভালোবাসা, নির্ভরতা ও আনুগত্যের কেন্দ্র হতে হবে আল্লাহ তাআলা। দুনিয়ার সম্পদ, মর্যাদা, খ্যাতি কিংবা মানুষের ভালোবাসা যেন তার অন্তরকে আল্লাহর স্মরণ ও সন্তুষ্টি থেকে বিমুখ না করে।
এর অর্থ দুনিয়ার বৈধ সম্পর্ক ও প্রয়োজন পরিত্যাগ করা নয়; বরং এসবের প্রতি ভালোবাসাকে আল্লাহর আনুগত্যের অধীন রাখা। মানুষ যখন নিজের আকাঙ্ক্ষার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয় এবং তাঁর নৈকট্য লাভকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন তার অন্তর আধ্যাত্মিক পবিত্রতার পথে এগিয়ে যায়। এ স্তরের সাধনা মানুষকে দুনিয়ার মোহ ও প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহমুখী জীবন গঠনে সহায়তা করে। (তথ্যসূত্র: মিরকাতুল মাফাতিহ, ১/৩৪১)
পবিত্রতার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাও জরুরি
পবিত্রতার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মেসওয়াকের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার রাখা, জামাকাপড় পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে নির্দেশনা এসেছে। এসব নির্দেশনা শরঈ পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখারও তাগিদ দেয়।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/