
ঢাকা২৪নিউজ
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৪৪টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৬৩টি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সৌদি আরবগামী প্রবাসী কর্মী, ছুটিতে দেশে আসা ও বিদেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত যাত্রী এবং বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অনেককে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
বেবিচক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের (সৌদিয়া) ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট। সব মিলিয়ে সরাসরি বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৪টি।
এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের অনেকেরই সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে কাজে ফেরা কিংবা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের পরিকল্পনা ছিল। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের সেই পরিকল্পনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ফ্লাইটেও। বাতিল হওয়া ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, সালামএয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও ভ্রমণসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কারও পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট ধরার পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। ফলে যাত্রাপথ, টিকিটের সময়সূচি এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনেকে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরেন, আবার অনেকে নতুন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাত্রা করেন। এ অবস্থায় ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাদের যাত্রা বিলম্বিত হলে কর্মস্থলে যোগদান ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একই সঙ্গে সৌদি আরব হয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী ট্রানজিট যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হলে বিকল্প ফ্লাইট, নতুন যাত্রাসূচি এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন হলে টিকিট পুনর্নির্ধারণ, বিকল্প ফ্লাইট এবং অন্যান্য করণীয় সম্পর্কে এয়ারলাইন্সের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
বিশেষ করে যাদের সৌদি আরব হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার কথা, তাদের পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও টিকিটের শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বেবিচক সূত্রের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে এখন পর্যন্ত মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং এতে ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের যাত্রা স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
যোগাযোগ: ১৯৮ সি-ব্লক, রায়েরবাগ, কদমতলী, ঢাকা- ১৩৬২।
মোবাইল: ০১৬১২৩৪৬১১৯,ইমেইল: dhaka24news.top@gmail.com
ওয়েবসাইট: dhaka24news.top, ফেসবুক: https://www.facebook.com/DHAKA24NEWS.TOP/