নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানকার তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে শীতের প্রকোপ আরও বাড়ছে। আজ শনিবার সকাল ৯টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তর।
এর আগে, শুক্রবার একই সময়ে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে সেটিকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও জানান, রাতের সময় থেকে সকাল পর্যন্ত ব্যাপক কুয়াশা পড়ছে। ফলে সকাল থেকে কাজে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষজন বেশি ভুগছেন। অনেকেই গায়ে অতিরিক্ত কাপড় জড়িয়েও কাজ করতে পারছেন না। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দরিদ্র পরিবারগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে আছে।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, এই শীতে জেলা প্রশাসনের প্রধান কাজ হলো শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো। এই লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ জেলায় ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ৮,৬৪০টি কম্বল কিনে পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৬৫ হাজার কম্বল চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম চালু থাকলেও, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতা জরুরি। শীতের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও বেশি মানুষ কষ্টে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় প্রশাসন।

01612346119