‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে নতুন রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা নাহিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনৈতিক মাঠে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক ঐক্য গঠিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। রোববার ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জোটের প্রতিষ্ঠা এবং তার লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরেন। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক দফার ঘোষক ও এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি এই নতুন জোটের ঘোষণা দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসনাত কাইয়ূম। নতুন এ জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নাহিদ ইসলাম।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সংবাদ সম্মেলনের শিরোনাম ছিল, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণে আগ্রহীদের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য ঘোষণা’। এতে মূলত তিন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি ঐক্যপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসছেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই ঐক্য দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নেতারা জানান, তারা জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে অংশগ্রহণ করতে চান, এবং তাদের লক্ষ্য একক মার্কায় নির্বাচনে লড়াই করা।

নাহিদ ইসলাম এ সময় বলেন, “আমরা গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্যগুলো নিয়ে এগিয়ে যাব। পরিবর্তনের পক্ষে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “চব্বিশের পর গত দেড় বছরে আমাদের হতাশার অভিজ্ঞতা হয়েছে। সংস্কারের বিরোধিতা করে বিভিন্ন শক্তি নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, আমরা তিন দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি কেউ মনে করে, গায়ের জোর বা ধর্মের দোহাই দিয়ে আগামী নির্বাচনে জয় লাভ সম্ভব, তবে তারা সফল হবে না।”এসময় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ। পুরোনো বন্দোবস্তে মানুষ অতিষ্ঠ। ভুল-ত্রুটি থাকলেও আজ আমরা নতুন যাত্রা শুরু করছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট নিয়ে আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও জানান, এই জোট বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে গঠিত।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা হাসনাত কাইয়ূম বলেন, “ভবিষ্যতে এই জোট আরও বিস্তৃত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ, এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকেই চাই এই পরিবর্তন।” তিনি বলেন, “চব্বিশের অভ্যুত্থান টিকবে কিনা, তা নির্ভর করবে সংস্কারের বাস্তবায়নের উপর। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাব।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই জোট ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনে যৌথভাবে কাজ করবে। তারা গণতান্ত্রিক সংস্কার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা উল্লেখ করেন, এই ঐক্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই জোট দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *