নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ তফসিল আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের ভাষণ রেকর্ড শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক দিক তুলে ধরবেন।
ইসি সচিব জানান, তফসিল ঘোষণার জন্য ইতোমধ্যে বিস্তৃত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বিটিভি এবং বাংলাদেশ বেতারে সিইসির ভাষণ প্রচারের জন্য আগেই চিঠি দিয়ে তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সিইসির কার্যালয়ে ভাষণটি রেকর্ড করা হয়। তিনি বলেন, দেশের জন্য এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কমিশন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বাগেরহাট ও গাজীপুরের সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, বিষয়টি কমিশন জানে। তবে যেহেতু এখনো আদালতের আনুষ্ঠানিক আদেশ কমিশনের হাতে পৌঁছায়নি, তাই এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আদালতের আদেশ হাতে এলে কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সেভাবেই সংশোধন করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এ মুহূর্তে আমাদের পরিকল্পনা হলো ৩০০টি সংসদীয় আসনেই তফসিল ঘোষণা করা। যেহেতু আদালত থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ পাইনি, তাই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করা হবে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান যে আদালতের রায় নিয়ে আগে থেকেই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বাগেরহাটে চারটি এবং গাজীপুরে পাঁচটি আসন বহাল রাখার হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, কমিশনের হাতে এখনো কোনো লিখিত আদেশ নেই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য না করাই সমীচীন। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় সিইসি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন এবং দেশবাসীকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাবেন।
তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র তালিকা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বা ব্যালট ব্যবহারের সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন বিষয় ধাপে ধাপে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ভোটের তারিখ স্পষ্ট হয়ে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করা হবে। মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও চলমান রয়েছে।
সবশেষে ইসি সচিব বলেন, কমিশন আশা করে যে আগামীকাল ঘোষণা করা তফসিল দেশের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি করবে।

01612346119