সুপ্রীমকোর্ট আর্থিকভাবে স্বাধীন ও বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হলো : আইন উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট আর্থিকভাবে স্বাধীন হলো এবং বিচার বিভাগ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে আরও মুক্ত হলো। আজ বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে আজ এক ঐতিহাসিক দিন। সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় গঠনের চেষ্টা দুই-তিন দশক ধরেই চলছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অধস্তন আদালতগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর যে অভিযোগ ছিল, বিশেষ করে জামিন, রায় বা বিচারকদের বদলি-পদোন্নতি নিয়ে, সেসব এখন বন্ধ হবে।”

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

আইন উপদেষ্টা জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে সুপ্রিম কোর্ট এখন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে নিজস্ব সচিবালয়ের মাধ্যমে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এটি বিচার বিভাগের কাঠামোগত স্বাধীনতার জন্য বড় মাইলফলক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পাস হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদও প্রথম থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”

আজ বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪–এ সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। অনুষ্ঠানে এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলর সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৩০ নভেম্বর বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। গত বছরের ২৭ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট আইন মন্ত্রণালয়ে পৃথক সচিবালয়ের প্রস্তাব পাঠায়, যেখানে হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন আদালতগুলোর কার্যকর তদারকির জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি এবং সচিবালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বহুদিনের দাবি বাস্তব রূপ পেল বলে আইন উপদেষ্টা মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *