নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই, সময়মতোই ভোট হবে: ইসি সানাউল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। নির্ধারিত সময়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ইসি সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনকে বানচাল, প্রতিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে—এমন সুস্পষ্ট বার্তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এসেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মাত্রায় কঠোর অবস্থানে থাকবে বাহিনীগুলো।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার। নির্বাচন সময়মতোই হবে। নির্বাচন ঘিরে যেসব বাধা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে, সে বিষয়ে কমিশন ও সরকার অবগত রয়েছে এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার অংশ নেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, বাহিনীগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক চোরাগোপ্তা হামলাগুলোর প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বন্ধুর বেশে অনুপ্রবেশকারী নাশকতাকারী থাকতে পারে—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও মাঠপর্যায়ের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের সুযোগে সন্ত্রাসীরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য সন্ত্রাসীদের উসকানি বা পলায়নে সহায়ক হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি শরীফ ওসমান হাদির ওপর চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ না করলেও নির্বাচন ও কমিশনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু দিক উঠে এসেছে। সন্দেহভাজনদের অতীত ও অপরাধমূলক রেকর্ডও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কিছু সন্ত্রাসী জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে রয়েছে—এ বিষয়েও করণীয় নির্ধারণে আলোচনা হয়েছে। চোরাগোপ্তা হামলাগুলো বিচ্ছিন্ন নাকি বড় কোনো পরিকল্পনার অংশ, সেটিও মূল্যায়ন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনাও আলোচনায় আসে।

চেকপোস্ট বৃদ্ধি, সন্ত্রাসীদের চলাচল সীমিত করা এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান জোরদারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত নেওয়া উদ্যোগে কমিশন সন্তুষ্ট। তবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশনের দ্বিতীয় ধাপ সমন্বিতভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে। সব বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় জোরদার করা হবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নির্বাচন সামনে রেখে কমিশন ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *