নির্বাচন বানচালে গণঅভ্যুত্থানের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে: নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করা এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করে হত্যা ও হামলার ঘটনা ঘটছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রোববার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা পুরো জাতির সামনে ঘটেছে, অথচ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, যারা হত্যাচেষ্টায় জড়িত ছিল, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর পেছনে একটি সুপরিকল্পিত নীলনকশা রয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে যারা এ ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দুঃখজনকভাবে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপে লিপ্ত হচ্ছে। এই সময় পারস্পরিক বিভাজন তৈরি হলে ফ্যাসিবাদী শক্তিই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করেই গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চায় এনসিপি।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধপন্থী লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার চিন্তাশীল মানুষদের হত্যা করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল ও চিন্তাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠা থেকে বাধা দেওয়া।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দেশকে বারবার সংগ্রাম করতে হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই সংগ্রামে নতুন করে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক লড়াইয়ে একদিকে যেমন জনগণের পক্ষে থাকা বুদ্ধিজীবীরা ভূমিকা রেখেছেন, তেমনি অন্যদিকে একটি অংশ ক্ষমতাকেন্দ্রিক মতাদর্শ উৎপাদনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পরও বুদ্ধিজীবীর পরিচয়ে কেউ কেউ জুলাইয়ের আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার পক্ষে সম্মতি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের পক্ষে থাকা বুদ্ধিজীবীরা সবসময় ছিলেন, এখনও আছেন এবং ভবিষ্যতেও তারা কথা বলবেন।

তিনি বলেন, চিন্তার স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা কখনোই পূর্ণতা পায় না। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তিনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক সংগ্রামের চেতনায় বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *