দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে স্বদেশে পা রাখবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে এবং সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের আগমনকে আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থেকেও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে গণতন্ত্র উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরলে গণতন্ত্রের পথে যেসব বাধা ছিল, তা দূর হবে এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেটে যাবে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের আগমন যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী সময়ে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ফলে নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এতে দেশবাসীর মধ্যে নতুন আশা-প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসনের পটভূমি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়, যেগুলো বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। আইনি প্রক্রিয়ায় এসব মামলার রায় বাতিল ও অব্যাহতির ফলে তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো উসকানি বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না এবং গণতন্ত্রের পথে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *