নিজস্ব প্রতিবেদক
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশ এই তিন খাতের সমন্বয় ছাড়া প্রকৃত অর্থে ‘ওয়ান হেলথ’ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আজ আমরা শুধু ধারণাগতভাবে নয়, বাস্তব অর্থেই একটি সমন্বিত ‘আমরা’ হয়ে উঠেছি। উচ্চ পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একসঙ্গে বসা এই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত “ওয়ান হেলথ কার্যক্রম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কৌশল” শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফরিদা আখতার বলেন, ওয়ান হেলথ কেবল বক্তৃতা বা নীতিকথার বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব কমিটমেন্ট, নীতিগত অঙ্গীকার এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা। খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ হয়ে এসেছে। এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ ও ‘হোল অব নেশন’ পদ্ধতিতে এগিয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, মানুষ যেমন নানা রোগের ভুক্তভোগী, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে মানুষই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। অনিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ দূষণ, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন, জেনেটিক রোগ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ প্রকল্পে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ডিপিপির আওতায় তিনজন প্রকল্প পরিচালক রেখে কার্যক্রম বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিটি খাত সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে এবং দায়িত্ববোধ নিশ্চিত হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোকে কেন্দ্রস্থলে রেখে সমন্বিত ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস হলে তার চূড়ান্ত মূল্য সমাজকেই দিতে হয়। রাস্তা বা অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হলেও সুন্দরবন কিংবা একটি নদী নতুন করে সৃষ্টি করা যায় না।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ওয়ান হেলথের মূল কেন্দ্রে মানবস্বাস্থ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ প্রকল্পকে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি ‘আই-ওপেনিং’ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন, বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক মো. জাহিদুল কবির এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া পরিকল্পনা কমিশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
