উদার অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সংস্কার বাস্তবায়ন করছে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, একটি অধিকতর উদার, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার বাণিজ্য নীতি ও বাণিজ্যিক আইনসমূহে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, বাণিজ্য কার্যক্রম সহজীকরণের অংশ হিসেবে সরকার বর্তমানে ‘আমদানি নীতি আদেশ’ (আইপিও) সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত করেছে। তিনি বলেন, সংশোধিত আইপিওতে আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান ও কনফরমিটি অ্যাসেসমেন্টের শর্তগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা হয়েছে। এসব সংশোধনী খুব শিগগিরই, সম্ভবত আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনি কাঠামোকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, কোম্পানি আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং প্রতিযোগিতা আইনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের সংশোধনী প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার করা এবং ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বাণিজ্য খাতে কাঠামোগত, প্রক্রিয়াগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এর বিভিন্ন উইং সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের ছোটখাটো দ্বিপাক্ষিক ঘটনাগুলো সাধারণত বৃহত্তর বাণিজ্য গতিশীলতায় তেমন প্রভাব ফেলে না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত বছরের মে মাসের দিকে ভারতীয় বন্দর বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমলেও সরকার কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, পাট রপ্তানিতে বিধিনিষেধের মতো কিছু অভ্যন্তরীণ নীতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও স্থানীয় সরবরাহ বজায় রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট বাণিজ্য অংশীদারকে লক্ষ্য করে নয়। বিশ্বব্যাপী উদার বাণিজ্যের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর না হলে বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য নীতিতেই অটল থাকবে। রমজান মাস সামনে রেখে তিনি জানান, ১৯ জানুয়ারি অংশীজনদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, আমদানি পরিস্থিতি ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যাতে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *