উড়োজাহাজ ভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ: সরকারকে সতর্ক করলো আয়াটা (IATA)

অনলাইন প্রতিবেদক

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর শীর্ষ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (IATA)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারের এই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগ যাত্রীদের পছন্দের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে, উড়োজাহাজ সংযোগ ব্যাহত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরিন জাহানের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে আইএটিএ এই আপত্তির কথা জানায়। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র চিঠিটি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চিঠিতে আইএটিএ বিশেষভাবে প্রস্তাবিত ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর ধারা ৪৩এ-এর কথা উল্লেখ করে জানায়, এই ধারায় উড়োজাহাজ ভাড়া নিয়ন্ত্রণের যে বিধান রাখা হয়েছে, তা মুক্ত বাজার অর্থনীতির মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইএটিএর মতে, সত্তরের দশকের শেষদিকে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্ত নীতি চালুর পর থেকে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং এর ফলস্বরূপ বাস্তব অর্থে উড়োজাহাজ ভাড়া অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা বা ‘প্রাইস সিলিং’ নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারে। এতে এয়ারলাইন্সগুলো নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে। পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকলে শেষ পর্যন্ত টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়াও বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

এছাড়া আইএটিএ মনে করে, বাণিজ্যিক নমনীয়তা না থাকলে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বা সীমিত চাহিদার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে আঞ্চলিক সংযোগ কমবে এবং উড়োজাহাজ সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চিঠিতে ‘গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস’-এর উদাহরণ টেনে আইএটিএ জানায়, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ বর্তমানে উড়োজাহাজ ভাড়ার ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোকে পূর্ণ বাণিজ্যিক স্বাধীনতা দিয়ে থাকে। এমনকি ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ‘ওপেন স্কাই’ চুক্তিতেও এই স্বাধীনতার নীতি স্বীকৃত হয়েছে।

আইএটিএ আরও প্রশ্ন তুলেছে, সরকার যে ভাড়া জমা বা ‘ফেয়ার ফাইলিং’ ব্যবস্থার প্রস্তাব করছে, তা কি শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহের জন্য, নাকি নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যে। যদি এটি নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতাকে ব্যাহত করবে বলে সংস্থাটি মনে করে।

ভাড়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর বিভিন্ন লেভি ও চার্জ আরোপের জন্য একটি ‘অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে আইএটিএ। সংস্থাটির মতে, যেকোনো চার্জ নির্ধারণ প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর নীতিমালা অনুযায়ী ব্যয়-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হতে হবে।

চিঠির শেষাংশে আইএটিএ বাংলাদেশ সরকারকে প্রস্তাবিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, একটি শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই উড়োজাহাজ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া নির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, আইএটিএ বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৬০টি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং এয়ার অ্যাস্ট্রাও সংস্থাটির সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *