“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

পারিবারিক জমি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সংখ্যালঘু নারীকে মারপিট: এমপির সুপারিশও উপেক্ষা

এ.বি.এম. হাবিব

নওগাঁর মান্দায় বিবাদমান পারিবারিক জমির ওপর দিয়ে হাই ভোল্টেজ বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যেতে বাঁধা দেওয়ায় মারপিটের শিকার হয়েছে সংখ্যালঘু পরিবারের নারী-পুরুষরা। স্থানীয় এমপি ইকরামুল বারী টিপুর সুপারিশও উপেক্ষা করার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুতের জিএমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করে তারা বলেন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তার যোগসাজশেই তারা জোর করে পারিবারিক ও মামলাধীন ওই জমির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যেতে চায়। বাঁধা দিলে মারপিটের শিকার হন তারা।

এছাড়াও খুন জখমের ‍হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে সংখ্যালঘু ওই পরিবারটি। ঘটনাটি ঘটেছে, নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা একটি লিখিত অভিযোগ করেছে মান্দা থানায়। অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার রামপুর মৌজার জে এল নং-১০৪,খতিয়ান নং-৩৬, দাগ নং-৫৯, জমির পরিমাণ ৫.৫৫ একরের মধ্যে ৩ একর জমির উপর প্রায় ৪৮ বছর পূর্ব থেকে মামলা চলে আসছে। জমিটির প্রধান বাদী/বিবাদী ছিলেন মৃত-রঘুনাথ কবিরাজ ও ব্রজেন্দ্রনাথ কবিরাজ দু,জনেই এলাকার সুনামধন্য শিক্ষক ছিলেন।

বর্তমানে এ জমিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে জমিটি এসিল্যান্ড মান্দার রিসিভার বা তত্বাবধানে রয়েছে বলে জানা গেছে। এমতাবস্থায় প্রায় ৫/৬মাস পুর্বে পার্শ্ববর্তী নওগাঁ সদর,বলিহার ইউনিয়নের নিন্দইন গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, নামের এক ব্যক্তি রামপুর মৌজায় তার পুকুরে মাছ চাষ ও গবাদী পশুর ফিড তৈরির কারখানার জন্য বিদ্যুৎ চাহিদা চেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করলে, অফিস তা গ্রহণ করে, সবকিছু পাশ করে অনুমতি দেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

এতে বাঁধা হয়ে যায় সেই চলমান মামলাকৃত জমিটির ওয়ারিশগনেরা। তারা জানায়,জমিটির মামলা এখনো সুরাহা হয়নি ও সুরাহা হলে, কোন ওয়ারিশ কোন্ দিকে কে কতখানি জমি পাবে সেটাও নির্ণয় হয়নি। উক্ত খুটি পারিবারিক এই জমির মামলা নিষ্পত্তি অন্তে ওয়ারিশ গনের মধ্যে ভাগাভাগিতে আবারও অসন্তোষ ও জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও তারা জানান,সবচেয়ে বড় সমস্যা, শিল্প কারখানাও হাই ভোল্টেজ ত্বার ও খুঁটি যা ফসলী জমি ও গাছপালা এবং বসত বাড়ীর অতি নিকটে হওয়ায় জনবসতির জন্য ক্ষতিকর।

এখানে শিল্প কারখানা হলে তা জনবসতির জন্য হুমকি স্বরুপ হবে বলে জানান। তাছাড়াও সেখানে যোগাযোগের জন্য কোন রাস্তাও নেই।এ বিষয় নিয়ে কয়েকবার তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা হয়েও তা সমাধান হয়নি। জমিটি মান্দা থানার মধ্যে হওয়ায়, উক্ত জমির উপর দিয়ে খুটি পুঁতা বন্ধের জন্য, নওগাঁ জিএম বরাবর আবেদনে, অন্যপথে লাইন নির্মাণের জন্য নওগাঁ ৪ মান্দা আসনের এমপি, ডাঃ একরামুল বারী টিপু গত ১৯-৫-২০২৬ ইং তারিখে সুপারিশ প্রদান করেন যাহা জিএম (পবিস, নওগাঁ) এবং এজিএম(পবিস) সতীহাট,মান্দা) কে অবগত করেছেন তারা।

কিন্তু হঠাৎ করে, গত বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার সময় আবু বক্কর সিদ্দিক বলিহার ইউনিয়নের তাদের স্থানীয় লোকজন নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ এর লোকজনসহ খুঁটি পুঁততে শুরু করলে জমিটির ওয়ারিশগনেরা বাঁধা দেন। অভিযোগকারী কনক জানান, তারা বাঁধা দিতে গেলে,আবু বক্কর সিদ্দিকসহ তাদের লোকজনেরা এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিট করে,তাদেরকে রাস্তায় ফেলে দেয়, এবং তারা সংখ্যা লঘু হওয়ায় তাদের কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে তারা জানান। এতে তার মা,বাবা কালী চরণ ও তার সৎ মা হাতে,পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও ছিলা,ফোলা জখম হয়।

পরবর্তীতে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে সহযোগিতা চাইলে মান্দা থানার পুলিশ এসে ঘটনা গুলোর সবকিছু শোনেন,ছবি উঠান ও দু,পক্ষকে চলে যেতে বলেন এবং আহত তার মা-বাবাকে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে বলে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কনক চন্দ্র কবিরাজ ৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩০/৪০ জনকে আসামী করে মান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে বিবাদী আবু বক্কর সিদ্দিক ও কাজেম মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তারা জানায়, পল্লী বিদ্যুৎ এর লোকজন মাপ-যোগের ত্বার ধরে খুঁটি পুঁতার চেষ্টা করলে, তারা তাতে বাঁধা দিয়ে কাজে বেঘাত ঘটাচ্ছিল।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

তাদেরকে সেখান থেকে টানাটানির এক পর্যায়ে, তাদের একজন লোক কাজেমকে ধাক্কা দিলে, বয়স্ক মহিলা সহ রাস্তায় পড়ে যায়, এতে কাজেম এর এক হাঁটুতে ছিলা ফোলা জখম হয়েছে মহিলাটিও জখম হয়েছে বলে তারা জানান এবং সেখানে কোন মারামারির ঘটনা ঘটে নাই বলে তারা জানায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন,বিদ্যুৎ সকলেই পাওয়ার অধিকার রাখেন,কিন্তু জোরপূর্বক অন্যের ক্ষতি বা গোন্ডগোল, বিবাদ করা কাহারো কাম্য নয়।

তারা আরো বলেন, এ বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মকর্তা ও দুটি ইউনিয়নের স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই সঠিক সুরাহা করতে পারবেন বলে তারা মনে করেন।
অন্যদিকে এই সংখ্যালঘু পরিবারগুলো নিরাপত্তা হীনতায় ও অজানা আশংকায় দিনাতিপাত করছে বলে জানান, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনকও বটে।
এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খোরশেদ আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Play sound