নিজস্ব প্রতিবেদক
পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় এটি কিছু সময়ের জন্য অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের আবহাওয়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, তবে সারাদেশে প্রধানত শুষ্ক থাকবে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শৈত্যপ্রবাহ ও আংশিক মেঘলা আকাশের কারণে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, কিন্তু দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। শীতপ্রবাহের কারণে মানুষ সকালে ঘুম ভেঙে উঠে ঠাণ্ডা অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলিতে এ শৈত্যপ্রবাহ তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, শৈত্যপ্রবাহ সাধারণত উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের অবস্থার কারণে গঠিত হচ্ছে।
সিনপটিক অবস্থায় দেখা গেছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ বিরাজ করছে। এ অবস্থার কারণে দেশজুড়ে হালকা থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হচ্ছে এবং উত্তরের জেলা গুলিতে এটি কিছু সময়ের জন্য স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এ পরিস্থিতি আগামী এক দুই দিনের মধ্যে কিছুটা কমতে পারে।
ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ ও দিক সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮০ শতাংশ। এই আর্দ্রতা রাতের দিকে কুয়াশা ও শিশির সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে। শহরজুড়ে শীতের প্রভাব মানুষের সঙ্গে বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের উপর কিছুটা তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।
আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সর্বশেষ রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ২৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩১ মিনিটে এবং আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৪৪ মিনিটে ঘটবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের শৈত্যপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

01612346119