“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, ছাড় পাবে না: আইজিপি

মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স; অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, অপরাধীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ, বর্ণ, ধর্ম কিংবা সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকের সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে। মাদকাসক্তির কারণে হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধের ঘটনাও ঘটছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। ছবি: এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা।

মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে গুরুত্ব

আলী হোসেন ফকির বলেন, তরুণদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন নির্জন স্থানে মাদক গ্রহণ করছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়ছে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে।

তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধী যে মতাদর্শের, যে বর্ণের বা যে ধর্মেরই হোক না কেন, কিংবা যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সভাপতি এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই-পরবর্তী সময়ে পুলিশের মনোবল বৃদ্ধির উদ্যোগ

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ে পুলিশের পরিস্থিতি তুলে ধরে আইজিপি বলেন, ওই সময় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মধ্যে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যখন অনেকে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করতে ভয় পেতেন। সেখান থেকে পুলিশ বাহিনীকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

তিনি বলেন, পুলিশের সদস্যদের মনোবল, সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ কাজ করছে।

আইজিপি বলেন, মানুষ যেন নিরাপদে ঘরে বসবাস করতে পারেন, দিন-রাতে নির্ভয়ে বাইরে চলাচল করতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন—এমন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আইন মানতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান

দেশের প্রচলিত আইন যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও আইন মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, আইন ভঙ্গ করে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা দেশের বা সমাজের ক্ষতি করে। আইন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

  • আরও পড়ুন

আইজিপির ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। তা না হলে কারও ভবিষ্যৎই নিরাপদ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও নাগরিক সমাজকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নিরাপদ সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর

আইজিপির বক্তব্যে মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অপরাধী যে পরিচয় বা প্রভাবের অধিকারীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আইন মেনে চলা, অপরাধ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *