“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেন-রাশিয়ায় নিহত ৪, জ্বালানি স্থাপনায় আগুনে বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেন ও রাশিয়ার চলমান সংঘাতে নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশেই অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ গ্লাদকভ। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। একটি ড্রোন একটি গাড়িতে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, পৃথক একটি এলাকায় আরেকটি যানবাহনে হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন।

একই দিনে রাশিয়ার পাল্টা হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, ক্রিভি রিহ শহরে রাশিয়ার হামলায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে। এদিকে, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জ্বালানি অবকাঠামোও আবারও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় তেল শোধনাগারে আগুন লাগে, যার ফলে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় শহর তুয়াপসে ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি ওই তেল টার্মিনালে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর কয়েক দিন ধরে সেখানে আগুন জ্বলতে থাকে। এতে এক ধরনের তেলজাতীয় পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে বৃষ্টির সঙ্গে মিশে ‘তেল বৃষ্টি’ হিসেবে নিচে পড়ে। এর ফলে রাস্তাঘাট, যানবাহন ও গবাদিপশুর ওপর কালো দাগ পড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া এবং ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিকর পদার্থের প্রভাব কমানো যায়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া নিয়মিত ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে আঘাত হানছে, যাতে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ এখন আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে এবং বেসামরিক জনগণও ক্রমেই এর শিকার হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সামনে আরও বড় ধরনের মানবিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *