নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নির্মাণের মাত্র চার দিনের মাথায় বেহাল হয়ে পড়েছে একটি নতুন সড়ক। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও তড়িঘড়ি কাজের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত পুনর্নির্মাণ না করলে বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। উপজেলার ৬ নম্বর মৈনম ইউনিয়নের ভোলাবাজার থেকে রায়পুর পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কে সম্প্রতি পিচঢালাই কাজ করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথম বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে পিচ-পাথর উঠে যেতে শুরু করে। এতে করে নতুন সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে ভোলাবাজার এলাকায় জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা জানান, গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তড়িঘড়ি করে ঠিকাদারের লোকজন এসে খুব অল্প সময়ে কাজ শেষ করে চলে যায়। যথাযথ প্রস্তুতি বা মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শুধু নামমাত্র পিচ ও পাথর ফেলে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের সময় কোনো ধরনের তদারকি বা মান যাচাই হয়নি। নামাজ শেষে এলাকাবাসী এসে সড়কের অবস্থা দেখে বিস্মিত হন এবং মোবাইল ফোনে বিষয়টি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর রোববার রাতের বৃষ্টির পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। পরদিন সকালে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে নিচের স্তর বেরিয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের এই কাজ বাতিল করে পুরো সড়ক নতুন করে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত উপকরণ দিয়ে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ বিষয়ে ঠিকাদার মিঠু বলেন, “সরকারি নিয়ম ও সিডিউল মেনেই কাজ করা হয়েছে। কাজের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। কোনো ত্রুটি করা হয়নি।”
অন্যদিকে, মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি স্থানে ত্রুটি পাওয়া গেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, “ত্রুটিযুক্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তারা বলছেন, এমন নিম্নমানের কাজের কারণে একদিকে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকাবাসী।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119