বিশেষ প্রতিবেদক
টানা আট মাস পতনের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেলেও, সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা একে ‘স্থায়ী ইতিবাচক ধারা’ বলতে নারাজ। তাদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার প্রতিফলন নয়, বরং উৎসবের ছুটির কারণে জমে থাকা শিপমেন্টের ফলাফল।
রপ্তানি আয়ের সাম্প্রতিক চিত্র
রোববার (৩ মে) প্রকাশিত ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে রপ্তানি আয় বছরওয়ারি হিসেবে ৩২.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৩০০ কোটি ডলার।
প্রধান খাতসমূহের পারফরম্যান্স (জুলাই-এপ্রিল):
- তৈরি পোশাক: এই খাত থেকে আয় হয়েছে ৩১৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২.৮২% কম।
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: ৫.৬৫% প্রবৃদ্ধি নিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।
- প্রকৌশল পণ্য: ২০.১৪% এর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
- কৃষিপণ্য: এই খাতে ৪.৬৯% নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
- পাট ও হোম টেক্সটাইল: উভয় খাতেই ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন সংশয়?
ইপিবি এই সাফল্যকে বৈশ্বিক বাজার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত বললেও রপ্তানিকারকরা তিনটি প্রধান কারণে একে ‘সাময়িক’ মনে করছেন:
১. ঈদুল ফিতরের প্রভাব: বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, মার্চ মাসে ঈদের কারণে কারখানাগুলোতে ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটি ছিল। ওই সময়ে যেসব পণ্য জাহাজীকরণ (Shipment) করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো এপ্রিল মাসে পাঠানো হয়েছে। ফলে এপ্রিলে আয় বেশি দেখাচ্ছে।
২. নতুন ক্রয়াদেশের অভাব: উদ্যোক্তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে নতুন কোনো বড় অর্ডার বা ক্রেতাদের চাপে পরিবর্তন আসেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারখানা মালিক জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অনুকূলে নয়।
৩. রাজনৈতিক ও নীতিগত পর্যবেক্ষণ: নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্রেতারা এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, আগের মাসগুলোর ট্রেন্ড বা প্রবণতা না দেখে শুধুমাত্র এক মাসের উল্লম্ফনকে ‘ঘুরে দাঁড়ানো’ বলা যায় না।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস
রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, চলতি অর্থবছর শেষ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতেই শেষ হতে পারে। বিশেষ করে মে মাসের শেষ সপ্তাহে আবারও বড় ছুটি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃত চিত্র বোঝার জন্য আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ মন্তব্য: “কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে স্বাভাবিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন। দীর্ঘ ছুটির কারণে আগের মাসগুলোতে পণ্যের চালান ধীরগতির ছিল, যা পরবর্তী সময়ে নিষ্পত্তি হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। এটি স্থায়ী উন্নতির প্রতিফলন নয়।” — জাহিদ হোসেন, সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119