নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এবার পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনা এসেছে।
মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনার বিস্তারিত
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো মূল্যবৃদ্ধির যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- পাইকারি পর্যায়: পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
- ইউনিট প্রতি মূল্য: প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
- সঞ্চালন চার্জ: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন চার্জ ১৬ পয়সা বাড়ানোর আবেদন করেছে।
- খুচরা পর্যায়: নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পাইকারির সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
আর্থিক প্রভাব ও ভর্তুকি পরিস্থিতি
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে বড় অঙ্কের আর্থিক ঘাটতি ও ভর্তুকি বিদ্যমান। প্রতিবেদন অনুযায়ী:
- প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বর্তমানে ১২ টাকা, যেখানে বিক্রয় মূল্য মাত্র ৭ টাকা ৪ পয়সা।
- ইউনিট প্রতি দেড় টাকা দাম বাড়লে বছরে পিডিবির অতিরিক্ত আয় হবে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা।
- গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে রেকর্ড ৫৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।
গ্রাহক পর্যায়ে প্রভাব
পিডিবির তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৬৩ শতাংশ গ্রাহক মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। সরকার সাধারণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়ে মূলত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির ভার দিতে চায়। এতে প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত
বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:
পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম: “বর্তমানে প্রাথমিক পেপার ওয়ার্ক চলছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) একটি অবস্থানে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।”
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন: তিনি মনে করেন দাম বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, তবে তা একবারে না করে ধীরে ধীরে পাঁচ বছর মেয়াদে করা উচিত। তার মতে, সিস্টেমের অনিয়ম ও বাড়তি খরচ কমাতে পারলে ইউনিট প্রতি ২ টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব, যা সংকটের অর্ধেক সমাধান করে দেবে।
ক্যাব উপদেষ্টা এম শামসুল আলম: তিনি দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ আছে। অপচয় ও অনিয়ম না কমিয়ে কেবল দাম বাড়ানো কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।
বিদ্যুৎ খাতের এই সংকট মোকাবিলায় বিইআরসি এখন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দেখছে। শেষ পর্যন্ত দাম কতটা বাড়বে, তা কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119