“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে বছরব্যাপী অনুশীলনে অগ্রাধিকার দেবে সরকার

শুধু অংশগ্রহণ নয়, সম্ভাবনাময় ১৩–১৫ ডিসিপ্লিনকে বেছে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির পরিকল্পনা

বিশেষ সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে শুধু অংশগ্রহণের লক্ষ্য থেকে সরে এসে এবার পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ডিসিপ্লিন গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বছরব্যাপী অনুশীলনের পরিকল্পনা করছে সরকার। ভবিষ্যতে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও এসএ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে সম্ভাবনাময় খেলাগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

রোববার এশিয়ান গেমসে উশুতে পদকজয়ী বাংলাদেশি খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তারকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সরকারের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া পরিকল্পনা তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে কমিটি

জাপানে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। গেমসে বাংলাদেশের অংশ নেওয়া ২২টি ডিসিপ্লিনের সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের কাছ থেকে লিখিত প্রতিবেদন নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ফেডারেশনগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি এটিকে হতাশার কারণ হিসেবে দেখছেন না। বরং এখান থেকেই নতুনভাবে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান।

শুধু অংশগ্রহণ নয়, লক্ষ্য থাকবে পদক

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে দল পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু অংশগ্রহণকে গুরুত্ব না দিয়ে পদক জয়ের সম্ভাবনাকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আমিনুল হক।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোর মধ্যে যেসব ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি, সেগুলোকে চিহ্নিত করে বছরজুড়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে খেলোয়াড়রা বড় প্রতিযোগিতার আগে অল্প সময়ের প্রস্তুতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

সম্ভাবনাময় ডিসিপ্লিনে বাড়বে গুরুত্ব

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর পরিকল্পনায় ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দলীয় খেলাও রয়েছে। ক্রিকেট, হকি ও কাবাডিতে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তবে দলীয় ইভেন্টে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বহর ছোট করার যে আলোচনা রয়েছে, সরকার আপাতত সে পথে যেতে চায় না।

আমিনুল হক বলেন, ফুটবল বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলা হওয়ায় আন্তর্জাতিক আসরে এটি রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্রিকেট, কাবাডি ও হকিতেও বাংলাদেশের ভালো করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, টেবিল টেনিস, দাবা, জুডো, কারাতে, তায়কোয়ানদো ও উশুর মতো ডিসিপ্লিনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আওতায় থাকবে।

অ্যাথলেটিকসে ১০০ মিটারে বিশেষ নজর

অ্যাথলেটিকসের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ইভেন্টকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ করে ১০০ মিটার দৌড়কে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ১০০ মিটার ইভেন্টে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করা কঠিন হলেও এর জনপ্রিয়তার কারণে বাংলাদেশ এ ইভেন্ট থেকে সরে আসতে চায় না বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া শুটিং, আর্চারি, বক্সিং, ভারোত্তোলন ও জিমন্যাস্টিকসের মতো ডিসিপ্লিন নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

১৩ থেকে ১৫ ডিসিপ্লিনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

সবগুলো ডিসিপ্লিনে একইভাবে অর্থ, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি না দিয়ে সম্ভাবনা যাচাই করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে চায় সরকার। এ জন্য বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা এবং পদক জয়ের সুযোগ পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রায় ১৩ থেকে ১৫টি ডিসিপ্লিনকে বেছে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

হ্যান্ডবল নিয়েও নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কোন কোন খেলায় বাংলাদেশের বাস্তবসম্মত পদক সম্ভাবনা রয়েছে, তা যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক সাফল্যে বদলাতে পারে প্রস্তুতির ধরন

সরকারের নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে স্বল্পমেয়াদি ক্যাম্পের পরিবর্তে নির্বাচিত ডিসিপ্লিনে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য বাড়াতে সম্ভাবনাময় ডিসিপ্লিন চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, দক্ষ কোচিং এবং নিয়মিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পর এবার সেই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য—আন্তর্জাতিক আসরে শুধু বাংলাদেশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা নয়, বরং নিয়মিতভাবে পদক জয়ের সক্ষমতা তৈরি করা।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *