রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে বিএনপির নেতা; দুর্গাপূজায় সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান
ঢাকা২৪নিউজ
ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রে সমান অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দুর্গাপূজার আয়োজন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।
ধর্মীয় উৎসব সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে
রুহুল কবির রিজভী বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে থাকা বিভেদ ও ভেদরেখা দূর করে সবাইকে একত্রিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে একই ভূখণ্ডে পাশাপাশি বসবাস করছেন। নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি একে অপরের উৎসবেও অংশ নিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রমনা কালীমন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজনে অন্য ধর্মের মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
দুর্গাপূজা ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার যারা পছন্দ করেন না, তারা দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। উৎসবকে ঘিরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব যেন নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করা যায়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে না থাকেন, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ
রিজভী জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপি গত এক মাস ধরে সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়; সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।
নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য
দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এবার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগের উৎসবগুলোর তুলনায় এবার এ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পূজামণ্ডপগুলোতে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসব সফল করতে কাজ করছেন।
ছুটি ও সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন রিজভী
দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি সহায়তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার ছুটি এক দিন বাড়িয়েছেন। ফলে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এবার পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করতে পারছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, প্রতিটি মন্দিরের জন্য চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্দিরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে আট হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ চার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরোহিত ও সেবায়তদের উৎসব ভাতার সঙ্গে আরও তিন হাজার টাকা যুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
- আরও পড়ুন
- দুই সন্তানকে ঘিরেই পরীমনির সুখ, কাশবনে কাটালেন আনন্দঘন সময়

- নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রে সবার সমান অধিকার: রুহুল কবির রিজভী

- দুর্গাপূজায় চালু থাকবে পোশাক কারখানা, ছুটি পাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকরা

- ফুলের নামে অমর মেসি, পেরুর বিজ্ঞানীদের বিশেষ সম্মান

- সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী

সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান
রুহুল কবির রিজভী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ—ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তাই রাষ্ট্রের কাছে সবার অধিকার সমান হওয়া উচিত। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা এবং সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও বিএনপি কাজ করছে। তার মতে, একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকদের সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা জরুরি।
দুর্গাপূজার আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক
বক্তব্যের শেষে দুর্গাপূজার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন করতে পারবেন। একই সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষও দুর্গাপূজার আনন্দে শামিল হয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ”
01612346119