“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

দুর্গাপূজায় চালু থাকবে পোশাক কারখানা, ছুটি পাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকরা

কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা নয়, নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয়ের বিধান নিয়ে শ্রমিকনেতার আপত্তি

স্টাফ রিপোর্টার

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকলেও রফতানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকরা ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য ছুটি পাবেন। এ ছুটি তাদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পোশাক কারখানাগুলোতে আলাদাভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে না। বছরের শুরুতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি কারখানার বার্ষিক ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সেই তালিকা অনুসারেই কারখানার ছুটি পরিচালিত হয়।

তবে শ্রমিকদের ধর্মীয় উৎসবের ছুটি অন্য ছুটির হিসাব থেকে সমন্বয় করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শ্রমিকনেতারা। তাদের মতে, ধর্মীয় উৎসবের জন্য ছুটি পেলেও সেটি নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হলে শ্রমিকরা প্রকৃত অর্থে অতিরিক্ত উৎসবের ছুটির সুবিধা পান না।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) জানিয়েছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সদস্য কারখানাগুলোতে আলাদাভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে না।

সংগঠন দুটির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের শুরুতেই শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে কারখানাভিত্তিক ছুটির তালিকা নির্ধারণ করা হয়। সেই তালিকায় সাধারণত দুই ঈদে তিন দিন করে মোট ছয় দিনসহ মে দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিবসের ছুটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। মোট ১৩ দিনের ছুটির তালিকায় সাধারণত দুর্গাপূজার জন্য আলাদা ছুটি রাখা হয় না। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ছুটি নিতে চাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে তা সমন্বয় করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি ছুটি পাঁচ দিন, পোশাক কারখানায় আলাদা ব্যবস্থা

দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ঘোষিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি থাকার কথা।

এরপর গত ১৭ অক্টোবর বেসরকারি খাতের ছুটি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছুটির বিষয়ে শ্রম আইন অনুসরণ করে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়।

এ কারণে সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কারখানাগুলোর ছুটির ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট আইন, নির্ধারিত ছুটির তালিকা এবং মালিক-শ্রমিকপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

সদস্য কারখানাগুলোকে বিজিএমইএর নির্দেশনা

দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে সদস্য কারখানাগুলোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। গত বুধবার দেওয়া ওই নির্দেশনায় শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত উৎসব ছুটির নিয়ম অনুসরণ করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, বছরের শুরুতেই প্রতিটি কারখানায় শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ও নির্ধারিত ছুটির তালিকা বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের ছুটির ব্যবস্থা করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের ছুটিও সেই ব্যবস্থার আওতায় সমন্বয় করা হবে।

ছুটি নিয়ে শ্রমিকনেতার আপত্তি

সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের দুর্গাপূজার ছুটি নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হলেও সেটি যদি তাদের নিজস্ব নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটির হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হয়, তাহলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে উৎসবের অতিরিক্ত ছুটি বলা যায় না।

তার মতে, ধর্মীয় উৎসব প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য ছুটির ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত, যাতে শ্রমিকরা নিজেদের প্রাপ্য অন্যান্য ছুটির সুবিধা হারানো ছাড়াই ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।

  • আরও পড়ুন

ধর্মীয় উৎসবের ছুটি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন

তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রফতানি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি শ্রমিকদের ধর্মীয় অধিকার ও ন্যায্য ছুটির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার কথা জানালেও সেই ছুটি কোন খাত থেকে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকনেতাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

শ্রমিকদের ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় রাখার ক্ষেত্রে শ্রম আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *