“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম দিবসে নিয়ামতপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা

জলাশ পাহান
নওগাঁ প্রতিনিধি

মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ (হুল) দিবসের ১৭১তম বার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী যুব পরিষদ, আদিবাসী নারী পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকালে উপজেলার নির্ধারিত স্থান থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস, আদিবাসীদের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

  • আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মুর্শিদা খাতুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসাহাক আলী সরকার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান মণ্ডলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুধীজন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তজিয়া রবিদাস, প্রধান আলোচক নকুল পাহান (কেন্দ্রীয় কমিটি, আদিবাসী যুব পরিষদ), জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুভাষ হেমব্রম, কেন্দ্রীয় নেতা নবদ্বীপ লাকড়া, কেন্দ্রীয় আদিবাসী যুব কমিটির সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নওগাঁর সাংগঠনিক সম্পাদক বাসন্তী টপ্য, আদিবাসী নারী পরিষদ নিয়ামতপুরের আহ্বায়ক শুভ্রা এক্কা, রসুলপুর ইউনিয়নের সভাপতি মধু সরদার, আদিবাসী যুব পরিষদ নিয়ামতপুরের আহ্বায়ক প্রসেনজিত বারোয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক রপন মুন্ডা এবং পাড়ইল ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রেন্টু সরেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নওগাঁ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার মুন্ডা। র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ নিয়ামতপুর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি স্বপন পাহান।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

সভায় বক্তারা বলেন, ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গণঅভ্যুত্থান। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, জমিদারি শোষণ ও মহাজনী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সিধু মুর্মু, কানু মুর্মু, চাঁদ মুর্মু ও ভৈরব মুর্মুর নেতৃত্বে সাঁওতাল জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহ গড়ে তোলে। তাঁদের আত্মত্যাগ আজও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত।

বক্তারা আরও বলেন, সাঁওতাল বিদ্রোহের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে শহীদ সাঁওতাল বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নিয়ামতপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *