“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস, ৬৭ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

ক্রিড়া ডেস্ক

ডারবানে প্রথমে জয়ের পথেই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। ২৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে মাত্র ১৬ ওভারেই ১ উইকেটে ১২৯ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০১ রানের ব্যবধানে শেষ ৯ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়ে ৬৭ রানে ম্যাচটি হারে তারা।

এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ব্রিটজকের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা অবশ্য তাদের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। দলীয় রানের খাতা খোলার আগেই টনি ডি জর্জিকে হারায় তারা। এরপর কুইন্টন ডি ককও ১৪ রান করে ফিরে যান। টেম্বা বাভুমা ৩০ এবং রায়ান রিকেলটন ২৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দুজনই সেট হয়ে আউট হন। এরপর ডেভিড মিলার মাত্র ৯ রান করে ফিরে গেলে ১৬৮ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সেখান থেকে ইনিংসের হাল ধরেন ম্যাথিউ ব্রিটজকে ও মার্কো জানসেন। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১০৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাদের ব্যাটিংয়েই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্রিটজকে ছিলেন অসাধারণ। ১০৬ বলে ১৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১১২ রান করেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন।

“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” 01612346119
“বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ” ✉ Email: dhaka24news.top@gmail.com

অন্যপ্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন জানসেন। মাত্র ৫৯ বলে ৭৫ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। ব্রিটজকের সঙ্গে তার ঝড়ো জুটিই দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিনশর কাছাকাছি সংগ্রহ এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩টি এবং অ্যাডাম জাম্পা ২টি উইকেট নেন।

শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দাপট

২৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়াকে দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো সহজেই জিতে যাবে তারা। উদ্বোধনী জুটিতে অধিনায়ক মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেড দ্রুত রান তুলতে থাকেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দুজন মিলে অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। মার্শ ছিলেন বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক। মাত্র ৩৬ বলে ৬০ রান করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার রান যখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ এনে দেন কেশব মহারাজ। মার্শকে ফিরিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী শুরুর বড় ধাক্কা দেন। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণ ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

মহারাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার ধস

কেশব মহারাজ ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের মূল নায়ক। ৯.২ ওভার বল করে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই স্পিনার। তার সঙ্গে দারুণ ভূমিকা রাখেন আরেক বাঁহাতি স্পিনার বিজর্ন ফর্টুইন। তিনি ৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।

দুজন মিলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। একপর্যায়ে ১৬ ওভারে ১ উইকেটে ১২৯ রান করা অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়ে যায়। অর্থাৎ, জয়ের জন্য ভালো অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১০১ রানের মধ্যে শেষ ৯ উইকেট হারায়।

রেনশয়ের লড়াইও কাজে আসেনি

মিচেল মার্শের ৬০ রানের পর ম্যাট রেনশ অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি ৪৯ বলে ৪৪ রান করেন। তবে রেনশও যখন সাজঘরে ফেরেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। রেনশকে ফিরিয়ে দেওয়ার সময় মার্কো জানসেনের অসাধারণ ক্যাচও ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে। জানসেন দৌড়ে গিয়ে মাটির কাছাকাছি অবস্থান থেকে এক হাতে ক্যাচটি নেন। সেই ক্যাচে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দিকের প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে।

ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই দক্ষিণ আফ্রিকার দাপট

দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পেছনে শুধু বোলারদের নয়, ব্যাটসম্যান ও ফিল্ডারদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ব্যাট হাতে ব্রিটজকের সেঞ্চুরি এবং জানসেনের ঝড়ো ৭৫ রান দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৯৭ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী শুরু সত্ত্বেও মহারাজ ও ফর্টুইনের স্পিন আক্রমণ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বিশেষ করে মাঝের ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারান।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৯৭/৮ (৫০ ওভার)

  • ম্যাথিউ ব্রিটজকে — ১১২ (১০৬ বল)
  • মার্কো জানসেন — ৭৫ (৫৯ বল)
  • টেম্বা বাভুমা — ৩০
  • রায়ান রিকেলটন — ২৭
  • নাথান এলিস — ৩/৫৭
  • অ্যাডাম জাম্পা — ২/৫০

অস্ট্রেলিয়া: ২৩০ অলআউট (৪১.২ ওভার)

  • মিচেল মার্শ — ৬০ (৩৬ বল)
  • ম্যাট রেনশ — ৪৪
  • কুপার কনোলি — ৩৮
  • কেশব মহারাজ — ৪/২০
  • বিজর্ন ফর্টুইন — ২/৩৪

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৭ রানে জয়ী
সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে
ম্যাচসেরা: ম্যাথিউ ব্রিটজকে

  • আরও পড়ুন

সিরিজে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা

ডারবানের এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে জোহানেসবার্গে। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সামনে সিরিজে সমতা ফেরানোর সুযোগ থাকবে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিজেদের করে নিতে।

প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোর পর শেষ পর্যন্ত সেই শুরু ধরে রাখতে পারেনি তারা। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে চাপের মুখে থাকলেও ব্রিটজকে ও জানসেনের ব্যাটিং এবং মহারাজ-ফর্টুইনের বোলিংয়ে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। ডারবানের এই ম্যাচ তাই শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার অসাধারণ ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকল।

ঢাকার E দোকান

📱 ০ ১ ৬ ১ ২ ৩ ৪ ৬ ১ ১ ৯
```

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *